ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে শীতলা মাতা মন্দিরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি দ্রুতগতির ট্রাক ঢুকে পড়ায় অন্তত ১২ জন পুণ্যার্থী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৯ জন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) গভীর রাতে সপ্তমী উপলক্ষে মন্দিরে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগমের মধ্যে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধানবোঝাই ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মন্দিরের প্রবেশপথে থাকা ভক্তদের ওপর উঠে যায়। ট্রাকের সজোরে ধাক্কায় মন্দিরের প্রধান প্রবেশদ্বারের দেয়ালের একটি অংশ ধসে পড়ে। এতে কয়েকজন ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন গোয়ালিয়রের পুলিশ সুপার ধরমবীর যাদব। নিহত ব্যক্তিরা গোয়ালিয়র ও আশপাশের জেলার বাসিন্দা বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ট্রাকে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় চালক সেটির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সপ্তমী উপলক্ষে শনিবার রাতে গোয়ালিয়র ও আশপাশের এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী শীতলা মাতা মন্দিরে সমবেত হন। ভক্তদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ওই সড়কে ভারী যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল প্রশাসন।
রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে চিনোরের দিক থেকে আসা ধানবোঝাই ট্রাকটিকে ব্যারিকেড দিয়ে থামানোর চেষ্টা করা হয়। এ সময় ঢালু সড়কে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাকটি সড়কের পাশে থাকা পাঁচ থেকে ছয়টি প্রসাদের দোকান এবং সেখানে উপস্থিত ভক্তদের চাপা দিয়ে এগিয়ে যায়। পরে ব্যারিকেড ভেঙে ট্রাকটি মন্দিরের প্রধান প্রবেশদ্বারে সজোরে ধাক্কা দেয়।
এ ঘটনায় মোট ৪১ জন হতাহত হয়েছেন। উৎসবের রাতে মন্দির প্রাঙ্গণে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।