বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ আরও শক্তিশালী হয়ে প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে আঘাত হানতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। সম্ভাব্য আঘাতের সময় হিসেবে ২ নভেম্বর মধ্যরাত থেকে ৩ নভেম্বর ভোরের সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবার (২ নভেম্বর) প্রকাশিত বিশেষ আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তি নম্বর-৭ অনুযায়ী, পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড়টি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে আরও ঘনীভূত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির অবস্থান ও গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে আবহাওয়া বিভাগ।
ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ অন্ধ্র প্রদেশের নেল্লোর ও নারসাপুর উপকূলের মধ্যবর্তী এলাকায় আঘাত হানতে পারে। এ সময় ঘূর্ণিঝড়টির বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১০০ থেকে ১১০ কিলোমিটার হতে পারে। দমকা হাওয়ার বেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে বঙ্গোপসাগরের সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাগর উত্তাল রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া ও ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। উপকূলীয় এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ২ নম্বর দূরবর্তী হুঁশিয়ারি সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। পাশাপাশি উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়টির সম্ভাব্য গতিপথ ভারতের অন্ধ্র উপকূলের দিকে থাকলেও এর প্রভাবে বাংলাদেশের সমুদ্র পরিস্থিতি ও আবহাওয়ার ওপর নজর রাখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পরবর্তী আবহাওয়া বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ এবং সমুদ্রগামী নৌযানগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর।