ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয়ে নতুন করে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, ইরানের নেতাদের লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো কিছুটা বেশি করে ফেলেছে। এর ফলে দেশটির সঙ্গে আলোচনার জন্য কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা নিয়েও জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ইয়ংস্টাউনে রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের নেতৃত্বের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দূর এগিয়ে গেছে। এখন দেশটির সঙ্গে আলোচনার জন্য কার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে, তা নির্ধারণ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের অর্থ, ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ব্যাপকভাবে লক্ষ্যবস্তু করার কারণে কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, সম্ভাব্য নেতৃত্বের যাঁদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা ভাবা হয়েছিল, তাঁদের কেউই ইরানের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন। তবে তাঁর এ বক্তব্যের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা যায়নি।
একই বক্তব্যে ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও একাধিক দাবি করেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ইরানের বিমানবাহিনী, নৌবাহিনী এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের নৌবাহিনীর ১৫৯টি জাহাজ ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে তাঁর বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ইরানকে সামরিকভাবে দুর্বল করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করছে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথাও তুলে ধরেন।
এর আগে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের কাছে মার্কিন ড্রোন হামলায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি নিহত হন। ওই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযানের কৌশল নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্প তাঁর বক্তব্যে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী সম্পর্কের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। এ ছাড়া ২০০০ সালে ইয়েমেনের এডেন বন্দরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন তিনি। তবে ওই হামলার দায় আল-কায়েদা স্বীকার করেছিল।
ইরাকে মার্কিন সেনাদের ওপর বিভিন্ন সময়ে চালানো হামলার জন্যও তেহরানকে দায়ী করেন ট্রাম্প। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপকে যৌক্তিক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন তিনি।
ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যে একদিকে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি, অন্যদিকে দেশটির নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিশ্লেষকদের আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কারণ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের নেতৃত্বকে দুর্বল করা গেলেও পরবর্তী সময়ে কূটনৈতিক সমঝোতার জন্য কার্যকর যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা কঠিন হতে পারে।
সূত্র: আলজাজিরা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।