টেলিভিশনের অভিনেতা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু। এরপর সিনেমা, প্রযোজনা, ভিজ্যুয়াল ইফেক্টস (ভিএফএক্স), ক্রিকেট, বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ। এভাবেই তিন দশকের বেশি সময়ে নিজের বিশাল সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। হুরুন ইন্ডিয়ার ২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, তাঁর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০ হাজার কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
১৯৬৫ সালের ২ নভেম্বর দিল্লিতে জন্ম শাহরুখের। থিয়েটার ও টেলিভিশনে অভিনয়ের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করে ১৯৯২ সালে ‘দিওয়ানা’ সিনেমার মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর ‘বাজিগর’, ‘ডর’, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’, ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’সহ একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে জনপ্রিয়তা পান। বাড়তে থাকে পারিশ্রমিকও।
তবে শুধু অভিনয়ের আয়ের ওপর নির্ভর করেননি শাহরুখ। সিনেমার লাভের অংশীদার হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করে আয়ের পথ বিস্তৃত করেছেন।
প্রথম ব্যবসায়িক উদ্যোগে ধাক্কা
১৯৯৯ সালে অভিনেত্রী জুহি চাওলা ও পরিচালক আজিজ মির্জার সঙ্গে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ড্রিমজ আনলিমিটেড গড়ে তোলেন শাহরুখ। প্রতিষ্ঠানটির প্রথম সিনেমা ‘ফির ভি দিল হ্যায় হিন্দুস্তানি’ এবং পরবর্তী ছবি ‘অশোকা’ বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি। তবে ব্যবসায়িক এই ব্যর্থতা তাঁকে থামাতে পারেনি।
২০০২ সালে স্ত্রী গৌরী খানকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তোলেন রেড চিলিজ এন্টারটেইনমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে ‘ম্যায় হু না’, ‘ওম শান্তি ওম’, ‘চেন্নাই এক্সপ্রেস’, ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ ও ‘জওয়ান’-এর মতো সিনেমা প্রযোজনায় যুক্ত হয়।
শুধু সিনেমা নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকেনি রেড চিলিজ। চলচ্চিত্রের স্বত্ব, পরিবেশনা, ডিজিটাল কনটেন্ট ও পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজেও বিস্তৃত হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম।
ভিএফএক্স ও ক্রিকেটে বিনিয়োগ
শাহরুখের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রেড চিলিজ ভিএফএক্স। ‘রা.ওয়ান’, ‘কৃষ থ্রি’, ‘ফ্যান’ ও ‘জিরো’র মতো সিনেমায় ভিজ্যুয়াল ইফেক্টসের কাজ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অন্য প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সিনেমাতেও কাজ করার মাধ্যমে আলাদা আয়ের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া ২০০৮ সালে আইপিএলের প্রথম আসরের আগে জুহি চাওলা ও তাঁর স্বামী জয় মেহতার সঙ্গে কলকাতা নাইট রাইডার্সের মালিকানায় যুক্ত হন শাহরুখ। শুরুতে দলটির পারফরম্যান্স ভালো না হলেও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অব্যাহত রাখেন তাঁরা। ২০১২, ২০১৪ ও ২০২৪ সালে আইপিএল শিরোপা জেতে কলকাতা।
পরবর্তী সময়ে ক্যারিবীয় প্রিমিয়ার লিগ ও যুক্তরাষ্ট্রের মেজর লিগ ক্রিকেটেও নাইট রাইডার্স ব্র্যান্ডের বিস্তার ঘটেছে। ক্রিকেটে এই বিনিয়োগ শাহরুখের সম্পদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিজ্ঞাপন ও ব্র্যান্ডমূল্য
শাহরুখের আয়ের অন্যতম বড় উৎস বিজ্ঞাপন। গাড়ি, প্রযুক্তিপণ্য, ব্যাংকিং, পানীয়সহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে তাঁর জনপ্রিয়তা বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে তাঁকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
২০২৫ সালের হিসাব অনুযায়ী, ভারতীয় তারকাদের মধ্যে শাহরুখের ব্র্যান্ডমূল্য ছিল প্রায় ১ হাজার ৬৯৪ কোটি রুপি। তবে এই ব্র্যান্ডমূল্য তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ নয়।
বিলাসবহুল বাড়ি ও সম্পদের হিসাব
শাহরুখের সম্পদের তালিকায় রয়েছে মুম্বাইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত বিখ্যাত বাড়ি মান্নাত। এ ছাড়া দুবাইয়ের পাম জুমেইরায় বিলাসবহুল ভিলা এবং ভারতের আলিবাগসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর সম্পত্তি রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিনয়ের পাশাপাশি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান, ভিএফএক্স ব্যবসা, ক্রিকেট দল, বিজ্ঞাপন ও আবাসন খাতে বিনিয়োগ—সব মিলিয়েই শাহরুখ খানের সম্পদের ভিত্তি তৈরি হয়েছে। পর্দার জনপ্রিয়তাকে ব্যবসায়িক সুযোগে রূপান্তর করার মধ্য দিয়ে তিনি নিজেকে শুধু বলিউডের তারকা নয়, বিনোদনজগতের একজন সফল উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।