ধর্ষণ মামলায় সাবেক মার্কিন বক্সার মাইক টাইসনের বক্তব্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছে তাঁকে নিয়ে নির্মিত নতুন তথ্যচিত্র। সমালোচকদের অভিযোগ, তথ্যচিত্রে টাইসনের আত্মপক্ষ সমর্থন ও তাঁর বক্তব্য প্রাধান্য পেয়েছে। অন্যদিকে, ধর্ষণের শিকার নারীর অভিজ্ঞতা ও বক্তব্য তুলনামূলকভাবে কম গুরুত্ব পেয়েছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত নেটফ্লিক্সের চার পর্বের তথ্যচিত্র ‘টাইসন’-এ বক্সিং ক্যারিয়ারের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও বিতর্কিত অতীত তুলে ধরা হয়েছে। এতে ১৯৯১ সালে ডেসিরি ওয়াশিংটন নামের এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ এবং ১৯৯২ সালের বিচার ও দণ্ডের বিষয়টিও এসেছে।
১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানাপোলিসে একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার আয়োজনে ওয়াশিংটনের সঙ্গে টাইসনের পরিচয় হয়। পরে টাইসনের হোটেলকক্ষে তাঁকে ধর্ষণের অভিযোগ করেন ওই তরুণী। টাইসন অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনাটিকে সম্মতিতে হওয়া যৌন সম্পর্ক বলে দাবি করেন। তবে ১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদালত তাঁকে ধর্ষণসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করেন। এ ঘটনায় তাঁকে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং তিনি প্রায় তিন বছর কারাভোগ করেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান–এর পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, তথ্যচিত্রে ধর্ষণ মামলার আলোচনায় টাইসনের বক্তব্য ও তাঁর প্রতি সমর্থনমূলক মন্তব্যের উপস্থিতি বেশি। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের অভিযোগ ও তাঁর অভিজ্ঞতাকে অবিশ্বাস করার প্রবণতাও সেখানে উঠে এসেছে। এমন উপস্থাপনাকে ঘিরেই সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ২০২২ সালে প্রচারিত হুলুর ‘মাইক’ সিরিজেও ধর্ষণ মামলাটি আলোচনায় এসেছিল। তবে ওই সিরিজের নির্মাতারা ওয়াশিংটনের দৃষ্টিকোণ থেকে ঘটনাটি তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, দীর্ঘদিন ধরে টাইসনের জীবন ও ক্যারিয়ার নিয়ে নানা গল্প বলা হলেও অভিযোগকারী নারীর অভিজ্ঞতা যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
টাইসন বরাবরই ১৯৯১ সালের ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তবে আদালতের দণ্ডাদেশ তাঁর জীবনের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হয়ে রয়েছে। নতুন তথ্যচিত্রে ঘটনাটির উপস্থাপন আবারও ভুক্তভোগীর বক্তব্য, অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং গণমাধ্যমে যৌন সহিংসতার ঘটনা তুলে ধরার দায়িত্ব নিয়ে বিতর্ক সামনে এনেছে।