নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে হামেশা ফুড লিমিটেড ও কাশ্মীর গ্রুপের কারখানায় ডাকাতির ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। ঢাকা, গাজীপুর ও নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ২০০ কেজি তামার তার, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, মালামাল বিক্রির ৯৩ হাজার টাকা ও একটি তামার ববিন উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
সোমবার (২ নভেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, গত ২৬ অক্টোবর দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ভোর ৪টার মধ্যে সোনারগাঁওয়ের হামেশা ফুড লিমিটেড কারখানার নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে একদল ডাকাত তামার তার, মনিটর ও মোবাইল ফোন লুট করে পিকআপে করে নিয়ে যায়। এর পরদিন ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে একই কায়দায় কাশ্মীর গ্রুপ লিমিটেডের কারখানায় ডাকাতি হয়। সেখান থেকেও তামার তারসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় পৃথক দুটি ডাকাতির মামলা হয়।
পুলিশ জানায়, ৩১ অক্টোবর প্রথম দলটি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকা থেকে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার নগরবোয়ালিয়া এলাকার জলির মাতবরের ছেলে রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু (৩০) এবং গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকার আনারকলির হাফসা ট্রেডার্স থেকে কুমিল্লার তিতাস উপজেলার দড়িমাছুমপুর এলাকার আবুল আইশের ছেলে আবু সাঈদ ওরফে মোল্লাকে (৩৯) গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, দ্বিতীয় দলটি গাজীপুর থেকে নরসিংদীর মাধবদী উপজেলার কুরদোনাপাড়া এলাকার মান্নানের ছেলে বাছের মিয়া (২৫), টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মালিরচারা এলাকার কৃষ্ণ মোহনের ছেলে অনিল বাবু (৩৫) এবং গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার সেনপাড়া এলাকার হোসেনের ছেলে ইমন হাসান ওরফে রাশেদুলকে (২৮) গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে ৩০০ আরের ৪৪০ মিটার ক্যাবলের কভার থেকে ছাড়ানো ২০০ কেজি তামার তার, ঢাকা মেট্রো-ন-২০-৬৮৫৮ নম্বরের একটি খোলা পিকআপ, লুট করা মালামাল বিক্রির নগদ ৯৩ হাজার টাকা এবং একটি তামার ববিন উদ্ধার করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদী জানান, গ্রেপ্তারদের ১ নভেম্বর আদালতে পাঠানো হলে রাদেশুল মাদবর ওরফে রাজু এবং আবু সাঈদ ওরফে মোল্লা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তার রাজুর বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতির একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপর গ্রেপ্তার অনিল বাবুর বিরুদ্ধে ডাকাতিসহ ছয়টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।