বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য। সোমবার (২ নভেম্বর) অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডার রাজধানী সেন্ট জনসে কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনের (সিএইচওজিএম) ফাঁকে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অঙ্গীকার করা হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়টি জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, দুই দেশের মন্ত্রী দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। আলোচনায় যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শক্তিশালী রপ্তানি অবস্থান এবং বাংলাদেশে ব্রিটিশ বিনিয়োগের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান সংস্থার জন্য এয়ারবাসের উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ে বাংলাদেশের সম্মতির বিষয়টিকেও স্বাগত জানান দুই মন্ত্রী। তাঁদের মতে, এ উদ্যোগ দুই দেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
জলবায়ু পরিবর্তন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন এবং মানবিক সহায়তাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমর্থন অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন তাঁরা।
বৈঠকে মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাজ্যের মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।
এ সময় ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কমনওয়েলথ সম্মেলনের মতো আন্তর্জাতিক আয়োজনে এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।