যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির পরাজয়ের পেছনে ইরান যুদ্ধের ভূমিকা ছিল বলে স্বীকার করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফক্স নিউজ ও দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। এবারের নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে কিছুটা হলেও ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছিল। অন্যদিকে, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধও পরাজয়ের অন্যতম একটি কারণ ছিল। তবে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই বলেও স্পষ্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
নির্বাচনী প্রচারণার সময় ‘নতুন কোনো যুদ্ধ নয়’—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পরও ইরানে সামরিক অভিযান চালানোর সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে দাবি করেছেন তিনি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি বলেন, ‘আমি সঠিক কাজটিই করেছি। আবার সুযোগ পেলেও একই কাজ করতাম।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। সংঘাতটি এখন নবম মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে এ সংঘাতের জনপ্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। নির্বাচনী প্রচারণায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যেও বিভিন্ন সময়ে পরিবর্তন দেখা গেছে। কখনো তিনি ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, আবার কখনো বলেছেন, চাইলে যেকোনো সময় সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরও তিনি সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান বজায় রেখেছেন।
এদিকে, মার্কিন নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়কে স্বাগত জানিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘আমেরিকান জনগণ যুদ্ধের বিরুদ্ধে না বলেছে, আর আমরা এই বার্তাকে সমর্থন জানাই।’
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ অর্জন ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে। কংগ্রেসে বিরোধী দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় আগামী দিনে তাঁর প্রশাসনের আইন প্রণয়ন ও নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাড়তি বাধার মুখে পড়তে হতে পারে।