যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের পাশাপাশি সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে ডেমোক্র্যাটরা। এতে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ট্রাম্পের দল।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সিনেটে রিপাবলিকানদের ছয়টি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। প্রতিনিধি পরিষদেও অন্তত আটটি আসনে জয় বা আসন পরিবর্তনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথ তৈরি করেছে দলটি।
সিনেট নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা। ওহাইওতে রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডকে পরাজিত করে আবারও সিনেটে ফিরেছেন সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরড ব্রাউন। টেক্সাসে রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকো। অন্যদিকে, সাউথ ক্যারোলাইনায় রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহামকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যানি অ্যান্ড্রুজ।
এ ছাড়া নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফও নিজের আসন ধরে রেখেছেন। এসব ফলাফলে সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফলে হতাশা প্রকাশের পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ব্যালটে তাঁর নাম ছিল না। তাঁর নাম থাকলে রিপাবলিকানরা বড় ব্যবধানে জয়ী হতো বলেও দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, জর্জিয়ায় জয়ের পর এক সমাবেশে ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ওসফ বলেন, মার্কিন জনগণ নির্বাচনের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের অবক্ষয়, দুর্নীতি ও অযোগ্যতাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ভোটারদের অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন বিষয় নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর সমন্বিত বুথফেরত জরিপে অর্ধেকের বেশি ভোটার নির্বাচনকে ট্রাম্পের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশের সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ ভোটার দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ বা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া ৭০ শতাংশ ভোটার প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য চান বলে জানিয়েছেন।
ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলে মুডি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সনকে পরাজিত করে নিজের আসন ধরে রেখেছেন। তবে নির্বাচনের সামগ্রিক ফলাফলে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটিগুলোতেও ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য দলটির জন্য বড় রাজনৈতিক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচনের নিরাপত্তা ও নজরদারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ৫০টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় এক হাজার পর্যবেক্ষক মোতায়েন করেছিল। ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ভোটারদের প্রভাবিত ও আতঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন ও নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে নতুন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রেসিডেন্টের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের ওপর কংগ্রেসের নজরদারি ও তদন্তের সুযোগ বাড়াবে।