যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে জয়ী হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মার্কিন রাজনীতিক আবের কাওয়াস। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হিসেবে অঙ্গরাজ্যের ১২ নম্বর সিনেট আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে রিপাবলিকান প্রার্থী হান-খোন তো-কে পরাজিত করেছেন তিনি। তাঁর এ জয়কে নিউইয়র্কের আইনসভায় হিজাব পরিহিত নারী প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, ১২ নম্বর সিনেট আসনে আবের কাওয়াস পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২৯১ ভোট, যা মোট ভোটের ৭০ দশমিক ১৩ শতাংশ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী হান-খোন তো পেয়েছেন ১৬ হাজার ১৬১ ভোট বা ২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ। নির্বাচনী এলাকার সব ১৫০টি ভোটকেন্দ্রের ফল প্রকাশের পর এ হিসাব পাওয়া গেছে।
এর আগে ভোট গণনার প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হওয়ার সময় নিউইয়র্ক টাইমস কাওয়াসের জয় ঘোষণা করে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। ওই সময় তাঁর প্রাপ্ত ভোটের হার প্রায় ৭৫ শতাংশ ছিল। বিজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি লেখেন, ‘আমরা ইতিহাস গড়েছি।
নির্বাচনী প্রচারণায় কাওয়াস ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’ স্লোগান সামনে রাখেন। তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকারের মধ্যে ছিল সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন এবং সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং বিদেশি যুদ্ধে মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের বিষয়েও অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
কাওয়াস ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার সদস্য। নির্বাচনে তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালাইবসহ কয়েকজন প্রগতিশীল রাজনীতিক। নিউইয়র্কের ১২ নম্বর সিনেট আসনটি কুইন্স এলাকার কয়েকটি জনপদ নিয়ে গঠিত।
রাজনীতিতে আসার আগে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে শ্রমিক অধিকার, অভিবাসী জনগোষ্ঠী ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন কাওয়াস। নিউইয়র্কের দাতব্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন নিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে ‘নট অন আওয়ার ডাইম’ প্রচারাভিযানেও ভূমিকা রাখেন তিনি।
ফিলিস্তিনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান কাওয়াস নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্মগ্রহণ করেন ও বেড়ে ওঠেন। অভিবাসননীতি, নাগরিক অধিকার এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা নির্বাচনী প্রচারণাতেও গুরুত্ব পেয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনাও তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আলোচনায় এসেছে।
নিউইয়র্ক পুলিশের সঙ্গে নজরদারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কগনাইটের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফোন ট্র্যাকিং ব্যবস্থা নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির বিরোধিতাও করেছিলেন তিনি। নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলোর আপত্তির মুখে ওই চুক্তি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
আবের কাওয়াসের এই জয় নিউইয়র্কের রাজনীতিতে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ও হিজাব পরিহিত নারীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে।