আদালতের পরোয়ানা ছাড়া কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা যাবে না—এমন বিধান প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের আগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের মতামত নেওয়া হবে। আলোচনা ও পর্যালোচনা শেষ হলে চলতি বছরের মধ্যেই আইনটি প্রণয়নের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আইনটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় সরকার তাড়াহুড়া করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বরং সব দিক বিবেচনা করে একটি গ্রহণযোগ্য আইন প্রণয়নের চেষ্টা চলছে।
সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালতের পরোয়ানা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবটি বিবেচনায় রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষার বিষয়টি আইনে কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়ে সরকার কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে আইনটির অন্যান্য বিধানের সঙ্গেও সমন্বয় করা হবে।
এ সময় বুধবার ডিবিসি নিউজের কয়েকজন সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তা নাকচ করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, ডিবিসির সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়নি; বরং সাময়িকভাবে হেফাজতে নেওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ডিবিসি কার্যালয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারণে হয়তো তাদের কিছু সময়ের জন্য সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ডিবিসি নিউজের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সাংবাদিক ও সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে একটি মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ফলে পুরো ঘটনাকে ঘিরে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে চলমান তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিক আন্দোলন নিয়েও কথা বলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। তার মন্তব্য, বর্তমানে গার্মেন্টস খাতে যে আন্দোলন চলছে, তা মূলত রাজনৈতিকভাবে ফ্রেম করা একটি বিষয়। তবে এ বক্তব্যের পক্ষে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দিয়েছেন কি না, তা প্রকাশিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়নি।
অন্যদিকে সাংবাদিকদের গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে আদালতের পূর্বানুমতি বা পরোয়ানা সংক্রান্ত বিধান প্রস্তাবিত আইনে যুক্ত হলে তা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। তবে বিষয়টি এখনো বিবেচনাধীন প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে। আইন চূড়ান্ত হওয়ার আগে এর সুনির্দিষ্ট বিধান ও প্রয়োগের পরিধি সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।