সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে কোনো সাধারণ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে না বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেছেন, পলাতক ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলকে বিদায় জানানোর সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, এ ক্ষেত্রে সাধারণ পাসপোর্ট কিংবা ট্রাভেল পাস দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্দি বিনিময় চুক্তিই হবে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়ার ভিত্তি। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে বাংলাদেশ, চীন ও মিয়ানমারকে যুক্ত করে পরিকল্পিত ত্রিপক্ষীয় অর্থনৈতিক করিডোর নিয়েও কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত এই করিডোর বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন, বিনিয়োগ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, এই আঞ্চলিক করিডোরে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগে রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পরিবেশ নিশ্চিত না হলে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ থেকে যাবে।
তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং পুরো অঞ্চলের শান্তি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার পরিকল্পনার পাশাপাশি এই মানবিক সংকট সমাধানেও কার্যকর অগ্রগতি প্রয়োজন।
চীনের প্রতিনিধিদলের সফর প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, লিউ হাইশিংয়ের এই সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপাক্ষিক এবং কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর ও গতিশীল হবে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি করা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার ত্রিপক্ষীয় করিডোর এবং রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখে আঞ্চলিক কূটনীতি ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা চলছে।