তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ ও অস্থিরতা সৃষ্টির পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগ এবং তাদের সহযোগীদের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেছেন, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণের বিষয়ে সরকার আশ্বাস দেওয়ার পর প্রকৃত শ্রমিকদের বড় একটি অংশ আন্দোলন থেকে সরে গেছেন। তবে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে শিল্পকারখানায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউরিতে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে মহানগর বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী অভিযোগ করেন, চলমান শ্রমিক আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশের গাড়ি ও পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে পলাতক আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগীদের ইন্ধন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ অভিযোগের পক্ষে বক্তব্যে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি বিএনপির এই নেতা।
৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই দিবসের চেতনা হচ্ছে গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং বহুদলীয় রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার চেতনা। এ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একই সঙ্গে যেকোনো আগ্রাসী ও আধিপত্যবাদী শক্তি এবং তাদের স্থানীয় সহযোগীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের অধিকার এবং রাজনৈতিক দল গঠনের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত। গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এ চেতনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ওই বছরের ২৫ জানুয়ারি একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র, রাজনৈতিক অধিকার ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সিপাহি-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্রের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সেই ধারাকে এগিয়ে নিয়েছিলেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পর্যন্ত বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ৭ নভেম্বরের চেতনা ভূমিকা রেখেছে। দেশের মানুষ আর গুম, খুন কিংবা রাজনৈতিক ভিন্নমতের কারণে নির্যাতনের শিকার হতে চায় না। জনগণের রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম লক্ষ্য।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার পরিস্থিতি এবং বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে রিজভী বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর জনগণ তাদের ওপর আস্থা রেখেছিল। পরবর্তী সময়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো বাস্তবায়নে কাজ করছেন। ক্ষমতায় আসার পরপরই দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সহায়তায় ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। সঞ্চালনা করেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব নাজিমুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রাফিকুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন।
এ ছাড়া মহানগর যুবদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য দেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন দিপ্তী, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ, মহিলা দলের সভাপতি মনোয়ারা বেগম মনি, স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়ত হোসেন বুলু এবং ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম।
সমাবেশ শেষে কাজীর দেউরি থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে নগরের জামালখানে গিয়ে শেষ হয়। এতে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।