চিত্রনায়িকা পরীমনিকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বচসা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার দেওয়া একটি পোস্ট নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। অভিযোগ উঠেছে, ওই পোস্টের পটভূমিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র সুর ব্যবহার করেছেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর)। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পান পরীমনি। আদালতে উপস্থিত হওয়ার পর গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে তার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হেনস্তার অভিযোগও ওঠে তাকে ঘিরে। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলার মধ্যেই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন এই অভিনেত্রী।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই পোস্টের পর একই দিন রাতে, পরবর্তী সময়ে শুক্রবার ভোররাতে, তিনি আরও একটি পোস্ট প্রকাশ করেন। পোস্টটির ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক হিসেবে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র সুর যুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। পোস্টটির কমেন্ট বক্স বন্ধ রাখা হলেও শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত এতে ৭৪ হাজারের বেশি লাইক এবং তিন হাজারের বেশি শেয়ার দেখা যায়।
জাতীয় সংগীত দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, ইতিহাস ও জাতীয় পরিচয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো বিতর্কিত পোস্টের সঙ্গে জাতীয় সংগীতের সুর ব্যবহারের বিষয়টি অনেকের কাছে আপত্তিকর বলে বিবেচিত হচ্ছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। কেউ বিষয়টিকে জাতীয় সংগীতের প্রতি অসম্মানজনক ব্যবহার হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট ও পোস্টের উদ্দেশ্য স্পষ্ট হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছেন।
এর আগেও ব্যক্তিগত জীবন ও বিভিন্ন বিতর্কের কারণে একাধিকবার সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় এসেছেন পরীমনি। ২০২১ সালের সাভারের বোট ক্লাবকাণ্ড, বনানীর বাসায় মাদকবিরোধী অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয় নিয়ে তাকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। অভিনেতা শরীফুল রাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে। পাশাপাশি শুটিংয়ের সময়সূচি ও পেশাগত আচরণ নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ও সমালোচনা সামনে এসেছে।
তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও যাচাই করা তথ্য বিবেচনা করা জরুরি। সর্বশেষ আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে বচসা এবং জাতীয় সংগীতের সুর ব্যবহারের অভিযোগ—দুটি ঘটনাই নতুন করে পরীমনিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
জাতীয় সংগীতের মতো রাষ্ট্রীয় মর্যাদাসম্পন্ন প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অভিব্যক্তি, শৈল্পিক স্বাধীনতা এবং জাতীয় অনুভূতির বিষয়গুলো কীভাবে বিবেচিত হবে, তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে পরীমনির পক্ষ থেকে কোনো ব্যাখ্যা বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।