শুটিং সেটে মারধরের অভিযোগ এবং পরবর্তী সময়ে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জেরে অভিনেত্রী তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ। সংগঠনটির এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তানজিন তিশা। শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সরাসরি সম্প্রচারে এসে সিদ্ধান্তের বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিশার সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়টি জানানো হয়। তবে অভিনেত্রীকে পাঠানো আনুষ্ঠানিক চিঠিতে তারিখ উল্লেখ করা হয়েছে ৪ অক্টোবর। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা মিঠু।
সংগঠনের চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ৭ জুলাই তানজিন তিশাকে সদস্যপদ স্থগিতের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ওই নোটিশের কোনো লিখিত জবাব সংগঠনের কার্যালয়ে জমা দেননি। এ ছাড়া দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সালিশ ও একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেসব বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত এবং সালিশ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কার্যনির্বাহী পরিষদের নিয়মিত সভায় সদস্যপদ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু সংবাদমাধ্যমকে জানান, তানজিন তিশা ও সামিয়া অথৈর মধ্যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার জন্য একাধিকবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সালিশ বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে ক্ষমা চেয়ে বিবৃতি ও ভিডিওবার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরপর দুটি চিঠি পাঠানোর পরও জবাব পাওয়া যায়নি এবং ফোনেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরে সালিশ কমিটির সুপারিশে কার্যনির্বাহী পরিষদ সর্বসম্মতিক্রমে সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়।
তবে সংগঠনের সিদ্ধান্ত ও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু তথ্য নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তানজিন তিশা। ফেসবুক লাইভে তিনি দাবি করেন, অভিনয়শিল্পী সংঘের ডাকা বিচার ও সালিশ বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন। সেখানে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা এবং পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করা হয়।
তিশার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে অপর পক্ষের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে ভিডিওবার্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পাশাপাশি অ্যাক্টরস সিকিউরিটিকে ধন্যবাদ জানানোর বিষয়টিও আলোচনায় আসে। তবে নির্ধারিত ভিডিওবার্তা দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে জানান তিনি। বিদেশভ্রমণ ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে সময়মতো ভিডিওটি দিতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরেন অভিনেত্রী।
সংবাদমাধ্যমের একাংশ যাচাই-বাছাই না করে একপক্ষীয় তথ্য প্রকাশ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিশা। তাঁর দাবি, গত এক বছর ধরে বিভিন্ন অভিযোগের মাধ্যমে তাঁকে সামাজিকভাবে হয়রানি করার চেষ্টা চলছে। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তিনি বলেন, কোনো অন্যায় করেননি বলে সহজে হার মানবেন না এবং নিজের অবস্থানের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার কথাও জানান তিনি।
জানা যায়, গত ৩ মার্চ মানিকগঞ্জে পরিচালক রাফাত মজুমদারের একটি নাটকের শুটিংকে কেন্দ্র করে দুই অভিনেত্রীর মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। ওই দিন ফেসবুক লাইভে এসে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ করেন সামিয়া অথৈ। তাঁর দাবি, নাটকের একটি দৃশ্যে তিশার তাঁকে আলতো করে চড় মারার কথা থাকলেও কয়েকবার জোরে চড় মারা হয়। এতে তাঁর চোখ ও গাল ফুলে যায়।
অন্যদিকে সামিয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তানজিন তিশা দাবি করেছিলেন, নাটকের চিত্রনাট্য ও চরিত্রের প্রয়োজনে দৃশ্যটি ধারণ করা হয়েছিল। পরিচালকও জানিয়েছিলেন, ওই দৃশ্যে দুই অভিনেত্রীরই একে অপরকে চড় মারার কথা ছিল। অভিনয়ের সময় কোনো চড় তুলনামূলক জোরে লেগে যাওয়ায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে।
দুই অভিনেত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, সংগঠনের সালিশি উদ্যোগ এবং সর্বশেষ সদস্যপদ স্থগিতের সিদ্ধান্তে ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য ও সংগঠনের সিদ্ধান্তের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।