সাংবাদিককে হেনস্তা, অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে আপত্তিকর মন্তব্য প্রকাশের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমনিকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককেও নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আদালত প্রাঙ্গণে ঘটে যাওয়া ঘটনার জন্য সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোববার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী খন্দকার হাসান শাহরিয়ার ডাকযোগে শামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনি এবং চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের ঠিকানায় এ আইনি নোটিশ পাঠান।
নোটিশে বলা হয়, গত ৫ নভেম্বর ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণে আত্মসমর্পণ করতে যাওয়ার সময় ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে গেলে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে পরীমনির নিরাপত্তারক্ষীদের আক্রমণাত্মক আচরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় একটি গণমাধ্যমের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদকের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং তাঁর ট্রাইপড ভাঙচুরের অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কাধাক্কিতে চার সাংবাদিকসহ একজন সাধারণ বিচারপ্রার্থী আহত হন বলেও নোটিশে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া আদালত থেকে বের হওয়ার সময় শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা এক সাংবাদিককে লক্ষ্য করে পরীমনি প্রকাশ্যে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়। আইনজীবীর মতে, এ ধরনের আচরণ সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা ও মর্যাদার পরিপন্থী।
আইনি নোটিশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জাতীয় সংগীত ব্যবহারের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৬ নভেম্বর পরীমনি তাঁর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’র আবহসংগীত ব্যবহার করে আপত্তিকর ভাষায় একটি বার্তা প্রকাশ করেন। নোটিশে এটিকে জাতীয় সংগীতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার শামিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংবিধানের ৪(১) অনুচ্ছেদ, জাতীয় সংগীতসংক্রান্ত বিধিমালা এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারার বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
নোটিশে পরীমনিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কোনো ধরনের হুমকি, অশালীন সংলাপ, কুরুচিপূর্ণ অঙ্গভঙ্গি এবং আপত্তিকর আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিকে সাত দিনের মধ্যে পরীমনিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া এবং অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন নোটিশদাতা আইনজীবী।
তবে আইনি নোটিশে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে পরীমনি বা চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেছে কি না, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। এখন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে নজর থাকবে।