বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ভাই কাভান সুলিভান ও কুইন সুলিভানের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) বড় জয় পেয়েছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। টরন্টো এফসিকে ৪-১ গোলে হারানোর ম্যাচে ছোট ভাই কাভান করেছেন জোড়া গোল। অন্যদিকে বড় ভাই কুইন একটি গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন আরও দুটি গোল। দুই ভাইয়ের এমন অসাধারণ সমন্বয়ে স্মরণীয় হয়ে থাকল ম্যাচটি।
মাত্র ১৭ বছর বয়সী কাভান সুলিভান ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পরিচয় দেন। খেলার ২৮তম মিনিটে তাঁর গোলেই এগিয়ে যায় ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। আক্রমণের সূচনা করেন বড় ভাই কুইন সুলিভান। তাঁর বাড়ানো ক্রস থেকে ইন্ডিয়ানা ভাসিলেভ বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে অবস্থান থেকে সরিয়ে দেন। এরপর ফাঁকায় থাকা কাভানকে বল বাড়িয়ে দিলে সহজেই জালে পাঠান তিনি।
এরপর ম্যাচের ৪১তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কুইন সুলিভান। তবে প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে জর্জে মিহাইলোভিচের কর্নার থেকে হেডে গোল করে টরন্টোকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন জশ সার্জেন্ট। ফলে বিরতিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ফিলাডেলফিয়া।
দ্বিতীয়ার্ধেও দুই ভাইয়ের বোঝাপড়া ছিল চোখে পড়ার মতো। ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে ব্রুনো দামিয়ানীর হেড থেকে বল পেয়ে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন কুইন। এরপর নিখুঁত পাসে ছোট ভাই কাভানকে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। বক্সে ঢুকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে জালে পাঠান কাভান। এর মধ্য দিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের ব্যবধান ৩-১ করেন তিনি।
ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন ব্রুনো দামিয়ানী। তাঁর এই গোলেই ৪-১ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের।
এই ম্যাচে দুই ভাইয়ের গোল করার ঘটনাটি এমএলএসের ইতিহাসেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। একই ম্যাচে একই ক্লাবের হয়ে দুই সহোদরের গোল করার ঘটনা লিগটির ইতিহাসে মাত্র তৃতীয়বার। এর আগে গঞ্জালো ও ফেদেরিকো হিগুয়েইন এবং দিয়েগো ও ইয়িমি চারা ভাইয়েরা এমন কীর্তি গড়েছিলেন।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে এমএলএস কাপের তিন ম্যাচের প্লে-অফ সিরিজে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। নিয়মিত মৌসুমে ১৪ জয়, ১২ হার ও ৮ ড্রয়ে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে ইস্টার্ন কনফারেন্সের ষষ্ঠ স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করেছে দলটি। ক্লাব ইতিহাসে এটি তাদের দশম প্লে-অফ অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে গত নয় মৌসুমের মধ্যে অষ্টমবারের মতো প্লে-অফে জায়গা করে নিয়েছে তারা।
অন্যদিকে ক্লাবের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর জাতীয় দলেও ডাক পেয়েছেন কাভান সুলিভান। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের নভেম্বর উইন্ডোর ঘোষিত স্কোয়াডে জায়গা ধরে রেখেছেন এই তরুণ ফুটবলার। ফলে আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের আগে ফিলাডেলফিয়ার হয়ে এমন স্মরণীয় পারফরম্যান্স তাঁর আত্মবিশ্বাস বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই দুই তরুণের সাফল্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে মাত্র ১৭ বছর বয়সে কাভানের এমন পারফরম্যান্স তাঁকে ঘিরে ভবিষ্যতের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।