জাপানের মধ্যাঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রোববার (৮ নভেম্বর) ভোরে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এতে বেশ কয়েকটি এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি রেল যোগাযোগেও সাময়িক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে ভূমিকম্পের পর কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করেনি দেশটির কর্তৃপক্ষ।
রাজধানী টোকিওভিত্তিক সংবাদমাধ্যম কিয়োদো নিউজ স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে হতাহতের এ তথ্য জানিয়েছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল শিজুওকা প্রিফেকচারের পশ্চিমাঞ্চলে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে এর কেন্দ্রস্থল ছিল। ভূমিকম্পের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি কম্পন অনুভূত হয়েছে আইচি ও শিজুওকা প্রিফেকচারে। এসব এলাকায় হতাহত ও বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইচি প্রিফেকচারে গত প্রায় তিন দশকের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে তীব্র ভূকম্পন। আকস্মিক এই কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বিভিন্ন স্থানে ভবন ও স্থাপনায় কম্পন অনুভূত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
ভূমিকম্পের পর নিরাপত্তার স্বার্থে স্থানীয় বেশ কয়েকটি রেলপথে ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। রেললাইন ও অবকাঠামোর নিরাপত্তা পরীক্ষা করার পর পরিস্থিতি বিবেচনায় চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছাকাছি শিজুওকা প্রিফেকচারে অবস্থিত হামাওকা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দেয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে কেন্দ্রটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান চুবু ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো অস্বাভাবিকতা বা ত্রুটি পাওয়া যায়নি। ফলে কেন্দ্রটির নিরাপত্তা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ নেই বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন রোববার সকালে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কুমামোতো প্রিফেকচারেও ৪ দশমিক ৩ মাত্রার আরেকটি পৃথক ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে এটি মধ্যাঞ্চলের ভূমিকম্প থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ঘটনা। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৮ জুলাই কুমামোতো অঞ্চলে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জাপান বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত দেশটি চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে রয়েছে। এসব প্লেটের পারস্পরিক সংঘর্ষ ও নড়াচড়ার কারণে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প অনুভূত হয়।
এ কারণে ভূমিকম্প মোকাবিলায় জাপানে উন্নত সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, ভূমিকম্পসহনশীল ভবন নির্মাণ এবং জরুরি উদ্ধার কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাম্প্রতিক ভূমিকম্পের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা যাচাই অব্যাহত রেখেছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও আল-জাজিরা।