মাঠের বিতর্ক, ফিফার নিষেধাজ্ঞা এবং ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে নানা আলোচনার মধ্যে মিসর জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব হারিয়েছেন হোসাম হাসান। দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে বরখাস্তের ঘোষণা দিয়েছে। জাতীয় দলের ভাবমূর্তি, শৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
মিসরীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাতীয় দলের ইতিবাচক ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ায় হোসাম হাসানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাঠের বাইরের বিভিন্ন বিতর্ক এবং বিশ্বকাপের ম্যাচ ঘিরে তাঁর মন্তব্য নিয়ে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে দেশটির গণমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর সমালোচনা করেন হোসাম হাসান। এ ঘটনায় বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাঁকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে। একই ঘটনায় মিসরের ফুটবলার মোস্তফা জিকোকেও পাঁচ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ফলে জাতীয় দলের কোচ ও খেলোয়াড়ের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা মিসরের ফুটবল অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়।
এর বাইরেও হোসাম হাসানের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। মিসরের গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সপ্তাহে দেশটির উত্তর উপকূলের একটি বিলাসবহুল হোটেলে তাঁর বর্তমান স্ত্রী ড্যান অ্যাডাম এবং সাবেক স্ত্রী হুবাইদার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। এর আগে দেশটির সুপ্রিম কাউন্সিল ফর মিডিয়া রেগুলেশন তাঁর গণমাধ্যমে উপস্থিতির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে মিসরের ফুটবল তারকা মোহামেদ সালাহর সঙ্গে হোসাম হাসানের সম্পর্ক নিয়েও আগে থেকে আলোচনা চলছিল। কোচের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে সালাহ জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যেতে পারেন—এমন গুঞ্জন ফুটবল অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এসব ঘটনার বিভিন্ন তথ্য ও অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই প্রয়োজন।
খেলোয়াড়ি জীবন শেষে ২০২৪ সালে মিসর জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেন হোসাম হাসান। দেশটির সাবেক এই তারকা ফুটবলার কোচ হিসেবে জাতীয় দলকে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে তুলতে ভূমিকা রাখেন। শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে মিসর। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সেই ম্যাচের পর রেফারিং নিয়ে তাঁর মন্তব্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিতর্ক তৈরি করে।
হোসাম হাসানের বিদায়ের পর নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ কোচ আলী মাহের। তিনি বর্তমানে মিসরীয় প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব সেরামিকা ক্লিওপেট্রার দায়িত্বে রয়েছেন। লিগে দলটির অবস্থান চতুর্থ স্থানে। নতুন দায়িত্ব নিয়ে জাতীয় দলকে দ্রুত গুছিয়ে নেওয়াই এখন তাঁর সামনে বড় কাজ।
আগামী ১৩ ও ১৭ নভেম্বর মালাউইয়ের বিপক্ষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলবে মিসর। ২০২৭ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের বাছাইপর্বের গ্রুপ ‘বি’-তে শীর্ষে থাকা দলটির জন্য এই ম্যাচগুলো গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কোচের অধীনে দল কতটা দ্রুত মানিয়ে নিতে পারে এবং সাম্প্রতিক বিতর্কের প্রভাব কাটিয়ে মাঠের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।