শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনকে পুঁজি করে কেউ বিশৃঙ্খলা কিংবা নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান।
তিনি বলেছেন, সাধারণ শ্রমিকদের প্রতি পুলিশের সহানুভূতি রয়েছে। তবে আন্দোলনের আড়ালে যারা উসকানি দিয়ে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইন প্রয়োগ করা হবে।
রোববার (৮ নভেম্বর) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় শ্রমিক আন্দোলন প্রসঙ্গে এসব কথা বলেন পুলিশ সুপার।
সভায় সাম্প্রতিক পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাবিবুর রহমান বলেন, শ্রমিকেরা তাঁদেরই ভাই। তাঁদের ওপর বল প্রয়োগ পুলিশের উদ্দেশ্য ছিল না। শুরুতে শ্রমিকদের বুঝিয়ে কাজে ফেরানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু পরিস্থিতির পেছনে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি সামনে আসায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সীমিত মাত্রায় বল প্রয়োগ করতে হয়েছে। প্রয়োজনে টিয়ার গ্যাসও ব্যবহার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপারের ভাষ্য, শ্রমিক আন্দোলন আপাতত কিছুটা স্তিমিত হলেও এর পেছনে সক্রিয় একটি পক্ষ এখনো উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে। বিভিন্নভাবে অস্থিতিশীলতা তৈরির তৎপরতা থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
এ সময় সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোর পাশাপাশি পরিবহন ও থ্রি-হুইলার খাতেও দলীয়ভাবে দায়িত্বশীল লোকজনকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। এসব খাতে সংগঠনের প্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হবে।
শিল্পকারখানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মালিকদেরও নিজস্ব উদ্যোগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন পুলিশ সুপার। যেসব কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা বলেন তিনি। প্রয়োজনে নিজস্ব কর্মী কিংবা অর্থের বিনিময়ে আনসার সদস্য নিয়োগের পরামর্শ দেন চেম্বার অব কমার্স ও বিকেএমইএর প্রতিনিধিদের।
শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে কোনো অসন্তোষ বা দাবি থাকলে তা যথাযথভাবে শ্রমিকদের কাছে তুলে ধরার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মজুরি বোর্ডে শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনগুলোর উচিত এ বিষয়ে শ্রমিকদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া।
সভায় মাদক, কিশোর অপরাধ ও ছিনতাই প্রতিরোধে পুলিশের কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে ‘কিশোর গ্যাং’ শব্দের পরিবর্তে ‘কিশোর অপরাধ’ শব্দটি ব্যবহারের পক্ষে মত দেন পুলিশ সুপার। তিনি জানান, জনবল সংকটের কারণে একসঙ্গে সব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পুলিশি কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হলেও বিদ্যমান সক্ষমতা দিয়ে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে। এসব কার্যক্রম আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হবে।
নগরীর যানজট পরিস্থিতি নিয়েও নিজের অসন্তোষের কথা জানান হাবিবুর রহমান। বিশেষ করে চাষাঢ়া মোড়ের যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রম আরও কার্যকর করার তাগিদ দেন তিনি। যানজট নিয়ন্ত্রণে রেকার ব্যবহারের সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেন।
এ ছাড়া বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে সাদপন্থী ও জুবায়েরপন্থীদের মধ্যে সম্ভাব্য বিরোধের আশঙ্কা তুলে ধরে সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা চান পুলিশ সুপার। নারায়ণগঞ্জে যাতে এ দুই পক্ষকে ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে আগাম সতর্কতা ও সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।