বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অধিনায়কত্ব হারিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার পরিবর্তে বাংলাদেশের নতুন ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লিটন দাস।
বুধবার (২৯ জুলাই) মিরপুরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) তৃতীয় বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে আগে থেকেই টি-টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বে থাকা লিটন দাস এখন থেকে বাংলাদেশের সাদা বলের দুই সংস্করণ—ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি—দলেরই অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
গত বছরের জুনে নাজমুল হোসেন শান্তর পরিবর্তে ওয়ানডে দলের অধিনায়ক করা হয়েছিল মেহেদী হাসান মিরাজকে। চলতি বছরের এপ্রিলে তাকে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হলেও বিশ্বকাপের প্রায় দেড় বছর আগেই নেতৃত্বে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিল বিসিবি।
বোর্ড সভা শেষে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন, তিন সংস্করণে তিনজন আলাদা অধিনায়ক রাখার পরিবর্তে বোর্ড এখন দুই অধিনায়কের নীতিতে বিশ্বাস করে। সেই অনুযায়ী লিটন দাস সাদা বলের এবং নাজমুল হোসেন শান্ত লাল বলের (টেস্ট) অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি আরও জানান, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তাওহীদ হৃদয়। অন্যদিকে টেস্ট দলের সহ-অধিনায়ক হিসেবে আগের মতোই থাকছেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতলেও সাম্প্রতিক সময়ে জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পরাজয় এবং বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিক ব্যর্থতা নেতৃত্ব পরিবর্তনের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদেশের মাটিতে মিরাজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৩টি ওয়ানডে খেলেছে, যার মধ্যে জয় এসেছে মাত্র দুটি ম্যাচে। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ হার এবং আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশও বোর্ডের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
বিসিবি সভাপতি আরও বলেন, মিরাজকে একজন অলরাউন্ডার হিসেবে দলের জন্য আরও বেশি প্রয়োজন। তার মতে, নেতৃত্বের চাপের কারণে মিরাজের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স, বিশেষ করে বোলিংয়ে, প্রত্যাশিত মানে ছিল না।
এ পর্যন্ত ১২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা মেহেদী হাসান মিরাজ অধিনায়ক হিসেবে ২৪টি ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এই সময়ে তিনি ব্যাট হাতে করেছেন ৪৯০ রান এবং বল হাতে নিয়েছেন ২৪টি উইকেট। পাশাপাশি নিয়েছেন ১৫টি ক্যাচ।
তামিম ইকবাল আশা প্রকাশ করেন, নেতৃত্বের চাপমুক্ত হয়ে মিরাজ আবারও নিজের সেরা ছন্দে ফিরবেন এবং বাংলাদেশ দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।