দেশে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে উল্লেখ করে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী বলেছেন, এই বিশাল মামলার জট নিরসনে প্রয়োজন হলে দেশের বিদ্যমান আইনেও পরিবর্তন আনা হবে। মামলার সংখ্যা কমানো এবং বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত করতে সরকার উন্নয়ন সহযোগী ও বেসরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে ব্র্যাক ও বাংলাদেশ লিগ্যাল অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)-এর সঙ্গে আইনি সহায়তা বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের মামলার জট নিরসনে কাজ করতে গিয়ে সরকার উপলব্ধি করেছে যে, এককভাবে এই সমস্যা সমাধান সম্ভব নয়। তাই উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা ও জিআইজেড-এর পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে মামলার ফাইলিং কমাতে এবং বিচারব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে বিদ্যমান আইনেও পরিবর্তন আনা হবে।
দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আইনের গতিতেই সব চলবে। তিনি যেভাবেই দেশে আসুন না কেন, বাংলাদেশের আইনি এখতিয়ারের মধ্যে এলেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে তিনি চাইলে আত্মসমর্পণ করতে পারেন। তবে আত্মসমর্পণের আগেই তাকে গ্রেপ্তার করা হতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আগামী আগস্টে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকার সম্ভাবনা সম্পর্কে তিনি বলেন, আপাতত বিশেষ অধিবেশন প্রয়োজন বলে সরকার মনে করছে না। কারণ সংবিধান ও সংসদীয় বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পরবর্তী অধিবেশন আহ্বান করা সম্ভব।
বাগেরহাটে কোস্টগার্ডের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনি সহায়তার বিষয়ে তিনি বলেন, ঘটনার পৃথক তদন্ত হবে। তবে প্রতিটি নাগরিকের আইনি সহায়তা পাওয়ার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও তথ্যপ্রযুক্তি আইন নিয়ে যে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে, সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে বলেও জানান আইনমন্ত্রী।