মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক মাস ধরে চলমান সংঘাতের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টরের মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান হারে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ অভিযান চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
শনিবার (১ আগস্ট) ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
দ্রুত কমছে ইন্টারসেপ্টরের মজুত
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)-এর তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ইন্টারসেপ্টর ছিল প্রায় ২,৩০০টি। বর্তমানে সেই সংখ্যা ৮২৭টিরও নিচে নেমে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স (THAAD) ব্যবস্থার মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। আগে যেখানে ৪৫২টি ইন্টারসেপ্টর ছিল, বর্তমানে তা ২৭৮টিরও নিচে নেমে এসেছে।
তিন বছর লাগতে পারে ঘাটতি পূরণে
সিএসআইএসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বর্তমান ঘাটতি পূরণ করে আগের অবস্থায় ফিরতে কমপক্ষে তিন বছর সময় লাগতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বা বিশ্বের অন্য কোনো কৌশলগত এলাকায় নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংকট দেখা দিলে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনী ও সামরিক স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
পেন্টাগনের জরুরি পরিকল্পনা
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২০২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৬৭ বিলিয়ন ডলারের জরুরি প্রতিরক্ষা তহবিলের মধ্যে ১৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে পেন্টাগন।
এই অর্থ দিয়ে নতুন প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর, টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাড়ছে কৌশলগত উদ্বেগ
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে একদিকে বর্তমান যুদ্ধ পরিচালনা এবং অন্যদিকে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ধরে রাখার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পুনর্গঠন এখন পেন্টাগনের অন্যতম অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।