ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি আহমেদ আল-জাবের এয়ার বেসে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে তেহরান। ইরানি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলায় মার্কিন সামরিক স্থাপনার উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-র বরাত দিয়ে পার্সটুডে জানায়, শুক্রবার (৩১ জুলাই) ভোরে পরিচালিত ‘সায়েকা’ (বজ্রপাত) অভিযানের ২৭তম ধাপে এই হামলা চালানো হয়।
ড্রোন হামলার লক্ষ্য কী ছিল?
ইরানের দাবি অনুযায়ী, আত্মঘাতী ড্রোনের মাধ্যমে আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটির—
- যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার,
- স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থা,
- সামরিক সরঞ্জামের গুদাম
লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
আহমেদ আল-জাবের ঘাঁটিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রমের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ইরানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে কেশম দ্বীপে বেসামরিক আবাসিক এলাকায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন এবং যুদ্ধাপরাধের উদাহরণ বলে উল্লেখ করেছে।
তেহরানের ভাষ্য, এই ধরনের হামলা, নিষেধাজ্ঞা ও সামরিক চাপ ইরানের প্রতিরক্ষা অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।
ইরানি সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও নিয়মিত সেনাবাহিনীর ধারাবাহিক হামলার কারণে প্রতিপক্ষের জন্য উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেও ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও কঠিন হয়ে উঠেছে।
এছাড়া তারা অভিযোগ করেছে, ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের প্রকৃত তথ্য গোপন রাখতে প্রতিপক্ষ কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হামলার দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি কিংবা ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।