কম তেলে স্বাস্থ্যকর রান্নার সুবিধা থাকায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এয়ার ফ্রায়ার। আধুনিক এই রান্নার যন্ত্রটি তেলে ডুবিয়ে ভাজার পরিবর্তে গরম বাতাসের মাধ্যমে খাবার রান্না করে। ফলে খুব কম তেল, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে তেল ছাড়াই মচমচে খাবার তৈরি করা সম্ভব হয়।
এয়ার ফ্রায়ারে ব্যবহৃত র্যাপিড এয়ার টেকনোলজি খাবারের চারপাশে উচ্চ তাপমাত্রার বাতাস দ্রুত প্রবাহিত করে। এতে খাবারের বাইরের অংশ মচমচে হলেও ভেতরের অংশ নরম থাকে।
কী কী রান্না করা যায়
এয়ার ফ্রায়ারে শুধু ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নয়, চিকেন ফ্রাই, ফিশ ফ্রাই, চিংড়ি, সিঙ্গাড়া, সমুচা, পেঁয়াজু, বেগুনি, কাবাব, রোস্ট, স্টেক, কেক, কুকিজ, মাফিনসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার তৈরি করা যায়। এছাড়া আগের দিনের খাবার পুনরায় গরম ও মচমচে করতেও এটি কার্যকর।
বাংলাদেশে বাড়ছে ব্যবহার
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারের রান্নাঘরে এয়ার ফ্রায়ারের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে রমজানে কম তেলে ইফতার তৈরির জন্য অনেক পরিবার এ যন্ত্র ব্যবহার করছেন। পাশাপাশি ছোট রেস্তোরাঁ, ক্লাউড কিচেন ও হোম-বেসড ফুড ব্যবসাতেও এর ব্যবহার বাড়ছে।
কেন জনপ্রিয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার ফ্রায়ারে প্রচলিত ভাজার তুলনায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কম তেল লাগে। এছাড়া দ্রুত রান্না, কম তেলের গন্ধ, সহজ পরিষ্কার এবং গরম তেলের ছিটা বা আগুন লাগার ঝুঁকি কম থাকায় এটি ব্যবহারকারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
কিছু সীমাবদ্ধতাও আছে
তবে একবারে বেশি পরিমাণ খাবার রান্না করা কঠিন হতে পারে। সব খাবারের স্বাদ ডুবো তেলে ভাজার মতো হয় না এবং তরল বা ঝোলজাতীয় রান্নার জন্য এয়ার ফ্রায়ার উপযোগী নয়।
বাজারে বর্তমানে বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও ধারণক্ষমতার এয়ার ফ্রায়ার পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজন ও বাজেট অনুযায়ী ছোট-বড় বিভিন্ন মডেল বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যকর রান্নার প্রতি আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এয়ার ফ্রায়ারের ব্যবহারও ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে।