মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, গাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন হামাসকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে। তার ভাষায়, এটি গাজায় শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথে একটি যুগান্তকারী অগ্রগতি।
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে এই অগ্রগতি এসেছে। তিনি বলেন, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরাইল ধাপে ধাপে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘বোর্ড অব পিস’ হামাসসহ গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর পূর্ণাঙ্গ নিরস্ত্রীকরণে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে।
তার ভাষায়, নতুন এই ব্যবস্থা গাজায় একটি নতুন ফিলিস্তিনি প্রশাসন প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে এবং ভবিষ্যতে অঞ্চলটি আর সশস্ত্র হামলার ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হবে না।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
তবে বিবিসি-র বরাতে দাবি করা হয়েছে, হামাসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, সংগঠনটি গাজায় নিরস্ত্রীকরণের পরিকল্পনায় সম্মত হয়েছে এবং শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে।
অন্যদিকে হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ আল-জাজিরাকে বলেছেন, ইসরাইল যদি নিজ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে হামাসও চুক্তির কোনো ধাপ কার্যকর করবে না।
‘বোর্ড অব পিস’-এর এক কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী—
- প্রথম ধাপে পুলিশের ব্যবহৃত অস্ত্র জমা দেওয়া হবে।
- এরপর পর্যায়ক্রমে ব্যক্তিগত ও অন্যান্য অস্ত্র হস্তান্তর করা হবে।
- সব অস্ত্র নতুন তদারকি কমিটির কাছে জমা দেওয়া হবে।
গাজায় যুদ্ধবিরতির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে মিশরের রাজধানী কায়রোতে একটি বহুপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে—
- মিশর
- যুক্তরাষ্ট্র
- কাতার
- তুরস্ক
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বোর্ড অব পিস হলো গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী অন্তর্বর্তী প্রশাসন, পুনর্গঠন, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রস্তাবিত একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা।
এতে মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, ইউরোপ, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকার একাধিক দেশের অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ইসরাইল সরকার ট্রাম্পের এই দাবির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে, হামাসের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক লিখিত ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।