ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের কঠোর পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারির পর যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পৃথকভাবে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ-এর সঙ্গে ফোনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন।
তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের সার্বভৌমত্ব বা জাতীয় নিরাপত্তার ওপর যেকোনো হামলার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন, হরমুজ প্রণালিতে অনুমোদনহীন নৌ চলাচল, নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক তৎপরতা বাড়ানোর অভিযোগও করেছে ইরান।
এদিকে মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক রস হ্যারিসন মনে করেন, হামলা স্থগিত হলেও পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত স্পর্শকাতর। তার ভাষায়, ইরান হুমকির মুখে কোনো আলোচনায় বসবে না এবং সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার সঙ্গে এখন লেবানন, গাজা, সৌদি-হুথি সংঘাত এবং ইরাকের পরিস্থিতিও জড়িয়ে পড়েছে। ফলে সাময়িকভাবে উত্তেজনা কমলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা, নৌ চলাচল এবং পারস্পরিক সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।