ভারতে শিক্ষার্থী আন্দোলন ও প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যুকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর নেতারা একযোগে দাবি করেছেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার কথা বলার পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীকেই শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবারের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।
গত শুক্রবার রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, সমাজে তৈরি হওয়া ক্ষোভ তিনি উপলব্ধি করেন। তবে তরুণদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে এবং তিনি তাদের ক্ষমা করে দিতে চান। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, জন্তর মন্তরের আন্দোলনে তাকে এবং তার প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে।
এর জবাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেন, সন্তান হারানোর কষ্টের চেয়ে বড় যন্ত্রণা আর নেই। প্রশ্নপত্র ফাঁস, পরীক্ষা বাতিল এবং দীর্ঘ প্রস্তুতির পরও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার কথা বলা নয়, বরং তাদের কাছে ক্ষমা চাওয়াই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব।
কংগ্রেসের জ্যেষ্ঠ নেতা পি. চিদাম্বরম, নেতা পবন খেরা, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধব ঠাকরেও মোদি সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থী আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে এবং সরকারের উচিত ঘটনার দায় স্বীকার করা।
অন্যদিকে বিজেপি সরকার সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে ইতোমধ্যে পাবলিক এক্সামিনেশনস (সংশোধনী) বিল পাস করা হয়েছে এবং একটি টাস্কফোর্স গঠন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।