সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর সহকারী নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল্লাহ জেলিন প্রায় ২৬ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। এ ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হলেও এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরিবারের অভিযোগ, জিডিতে উল্লেখিত তথ্যের সঙ্গে বাস্তব ঘটনার অসংগতি রয়েছে। তাই তারা নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) সিলেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ জেলিনের মা ফরিদা ইয়াসমীন এ দাবি জানান। আরিফুল্লাহ জেলিনের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার শীতলপুর গ্রামে। তিনি খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর সাবেক শিক্ষার্থী।
ফরিদা ইয়াসমীন জানান, গত ৮ জুলাই সিলেটের এয়ারপোর্ট থানাধীন খাদিমনগর ইউনিয়নের বিমানবন্দর আবাসিক এলাকার জি-টাইপ কোয়ার্টার থেকে তার ছেলে নিখোঁজ হন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি বলেন, নিখোঁজ হওয়ার দিন বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত তার সঙ্গে ভিডিও কলে কথা হয়েছে। কিন্তু থানায় করা জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১১টার মধ্যে কোনো এক সময়ে তিনি নিখোঁজ হয়েছেন। এই সময়গত অসংগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, প্রকৃত ঘটনা কেউ গোপন করছেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা উচিত।
পরিবারের দাবি, তারা সিলেটে পৌঁছানোর আগেই জেলিনের সহকর্মী ও বন্ধু পরিচয়ে ধনঞ্জয় কুণ্ডু (পিয়াস) নামে এক ব্যক্তি এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। পরিবারের মতে, ওই সময় জেলিনের সঙ্গে যোগাযোগে থাকা ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সহায়ক হতে পারে।
জেলিনের মা আরও বলেন, তার ছেলের ব্যক্তিগত জীবনে পরিচিত কোনো শত্রু ছিল না। তবে কর্মস্থলে কোনো বিরোধ বা অন্য কোনো কারণে তিনি নিখোঁজ হয়ে থাকতে পারেন বলে তাদের সন্দেহ।
এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সহিদুর রহমান কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে, ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মো. হাফিজ আহমদ বলেন, জেলিন নিখোঁজ হওয়ার পরপরই বিষয়টি পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়েছে। পরিবারের কাছ থেকে নতুন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সেটিও তদন্ত সংস্থাকে জানানো হচ্ছে। তিনি দ্রুত সহকর্মীর নিরাপদে ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।