সোনারগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্রীকে লাথি মারার ভিডিও ভাইরাল

 

সোনারগাঁ(নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: 
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দুই স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত এবং তাদের একজনকে লাথি মারার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ভিডিওটি ফেসবুক ও টিকটকে ভাইরাল হলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত এক যুবকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা যায়, উপজেলার কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী তানিসা তার এক বান্ধবীর প্রেমিক কিশোর মোঃ দিলসাদ হোসেনের (১৫) পক্ষে কথাবার্তা ও চিঠিপত্র আদানপ্রদান করতেন। প্রায় মাসখানিক আগে কাঁচপুর শীতলক্ষ্যা নদীর তীরবর্তী ওয়াকওয়েতে স্কুল ড্রেস পরা অবস্থায় তানিসা ও তার বান্ধবী হেঁটে যাচ্ছিল। এসময় প্রেমের ঘটনায় বাধা হয়ে দাড়িয়েছে মনে করে ও একটি তুচ্ছ কথার জের ধরে প্রেমিক দিলসাদ হোসেন তার প্রেমিকার বান্ধবী তানিসাকে একাধিকবার লাথি মারে। তবে, তানিসার বান্ধবী দিলসাদের সাথে তার প্রেমের বিষয়টি মিথ্যা বলে দাবী করেন। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় রায়েরটেক এলাকার বিএনপি নেতা আশরাফুল ইসলাম ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ বিষয়টি কয়েকদিন আগে মিমাংসা করেন। ঘটনা মিমাংসা করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে লাথি দেওয়ার ভিডিওটি ব্যাপক ভাইরাল হয়।

ধারনা করা হচ্ছে, ঘটনার সাথে জড়িত দিলসাদ হোসেনের সহযোগী কেউ লাথি দেওয়ার ঘটনার সময় ভিডিওটি ধারণ করেছিল। পরে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে দেয়।

এলাকাবাসীর দাবি, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার আইনগত ব্যবস্থা নিতে আগ্রহী না হওয়ায় ঘটনাটি থানা পর্যন্ত গড়ায়নি। ফলে এ বিষয়ে পুলিশের কাছেও কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। তবে, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর কাঁচপুর পুরান বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আরিফুজ্জামান আরিফ ঘটনাটি তদন্ত করেন।

এসআই আরিফুজ্জামান আরিফ জানান, দিলসাদ হোসেন কাঁচপুর রায়েরটেক এলাকার লিটন খাঁনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার পিতার নাম মোঃ সাফিউল ইসলাম। তানিসা কাঁচপুর উত্তরপাড়া হাবিব সাহেবের শ্যালকের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার পিতার নাম শাহিন মিয়া।
এব্যাপারে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কাঁচপুর ওমর আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, বিদ্যালয়ে না এসে স্কুল ড্রেস পড়ে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে বেড়ানো ও একাধিক বার নানান ঘটনার অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী তানিসা ও তার বান্ধবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সঠিক ভাবে জবাব না পাওয়া গেলে তাদেরকে টিসি দিয়ে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে।

সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আনোয়ার বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে স্কুল ছাত্রীকে লাথি দেওয়ার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার বিষয়টি আমি শুনেছি।তবে, এই ব্যাপারে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ দিতে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *