ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর কয়েকটি সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা। এতে অন্তত ৫৮ সরকারি সেনা নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দেশটির মধ্যাঞ্চল ও সৌদি সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এসব হামলা চালানো হয়। সামরিক সূত্রের বরাতে এএফপি জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর এটিকে ইয়েমেনের অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সামরিক সূত্র জানায়, মারিব প্রদেশের আল-রুওয়াইক এলাকায় সকালে সেনাদের কুচকাওয়াজ চলাকালে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এছাড়া সৌদি সীমান্তসংলগ্ন হাদরামাউতের আল-আবর ও আল-ওয়াদিয়াহ এলাকার সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি দাবি করেছেন, সরকারি বাহিনী সৌদি আরবের সহায়তায় সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করায় এসব হামলা চালানো হয়েছে। তিনি জানান, আল-রুওয়াইক, আল-থানিয়াহ ও আল-আবর এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে।
এদিকে ইয়েমেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার যথাযথ জবাব দেওয়া হবে।
হামলার প্রভাব সৌদি আরবেও পড়েছে। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, নাজরান অঞ্চলে হুথিদের হামলায় ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন।
২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক জোটের নেতৃত্ব দিচ্ছে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর সংঘাত কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক সময়ে আবারও লড়াই তীব্র হয়েছে।
দীর্ঘদিনের এই সংঘাতে ইয়েমেনে ব্যাপক প্রাণহানি ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। হুথিরা রাজধানী সানাসহ উত্তর ইয়েমেনের অধিকাংশ জনবহুল এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে, আর সরকার দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে।