ইংলিশ ফুটবলে বড় ধরনের মালিকানা পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম ধনী উদ্যোক্তা ও অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস এবং ফেসবুকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা এদুয়ার্দো সাভেরিনকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি কনসোর্টিয়াম লিভারপুল ফুটবল ক্লাবের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার কেনার চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, কনসোর্টিয়ামটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন ব্রিটিশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী অমিত ভাটিয়া। তিনি আগে কুইন্স পার্ক রেঞ্জার্সের (কিউপিআর) সঙ্গে মালিকানা পর্যায়ে যুক্ত ছিলেন। লিভারপুলের বর্তমান মালিক ফেনওয়ে স্পোর্টস গ্রুপ বা এফএসজি ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখবে বলে জানা গেছে। অর্থাৎ এটি পুরো ক্লাব বিক্রির চুক্তি নয়; বরং বড় একটি সংখ্যালঘু অংশীদারত্বের বিনিয়োগ।
এই বিনিয়োগ চূড়ান্ত হলে লিভারপুলের মোট মূল্যায়ন প্রায় ৪.৪ বিলিয়ন পাউন্ড, অর্থাৎ প্রায় ৫.৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হতে পারে। এ ধরনের মূল্যায়ন ফুটবল বিশ্বের অন্যতম বড় ক্লাব বিনিয়োগের উদাহরণ হয়ে উঠতে পারে।
২০১০ সালে লিভারপুলের মালিকানা নেয় এফএসজি। এরপর গত দেড় দশকে ক্লাবটির বাণিজ্যিক মূল্য ও বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৩ সালে এফএসজি ক্লাবটির প্রায় ৩ শতাংশ শেয়ার ডায়নেস্টি ইকুইটির কাছে বিক্রি করেছিল। নতুন বিনিয়োগটি হলে এফএসজির অধীনে লিভারপুলে সবচেয়ে বড় বাইরের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগগুলোর একটি যুক্ত হবে।
তবে বেজোস বা সাভেরিনের ব্যক্তিগত মালিকানা হিসেবে পুরো ৩৩ শতাংশ শেয়ার বোঝানো ঠিক হবে না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা বৃহৎ একটি বিনিয়োগকারী কনসোর্টিয়ামের অংশ হিসেবে এতে যুক্ত হচ্ছেন। কনসোর্টিয়ামটির নেতৃত্বে রয়েছেন অমিত ভাটিয়া।
লিভারপুলের জন্য এই বিনিয়োগের খবর এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ক্লাবটি বড় ধরনের পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত মৌসুমের পর কোচ আর্নে স্লটের জায়গায় আন্দোনি ইরাওলা দায়িত্ব নিয়েছেন। দীর্ঘদিনের তারকা ফরোয়ার্ড মোহাম্মদ সালাহও ক্লাব ছেড়েছেন। পাশাপাশি ফুটবল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা মাইকেল এডওয়ার্ডস জুলাইয়ে পদত্যাগ করেছেন।
রয়টার্স জানিয়েছে, গত মৌসুমে লিভারপুল পঞ্চম স্থানে শেষ করলেও খেলোয়াড় কেনায় প্রায় ৪৪৬ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছিল। ফলে নতুন বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য আগমন ক্লাবটির আর্থিক সক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কী প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
তবে এখনো চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়নি। ফলে লিভারপুলের মালিকানা কাঠামোতে পরিবর্তন নিশ্চিত হয়েছে—এমনটি বলা যাচ্ছে না। চুক্তি চূড়ান্ত হলে বেজোস, সাভেরিন ও অমিত ভাটিয়ার নেতৃত্বাধীন কনসোর্টিয়ামের বিনিয়োগ লিভারপুলের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক ও ক্রীড়া পরিকল্পনায় কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই হবে ফুটবল বিশ্বের বড় আগ্রহের বিষয়।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান