নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেছেন, বন্দরে বিদ্যুৎ সরবরাহের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ঘণ্টায় একাধিকবার লোডশেডিং হওয়ায় সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ, পানির সংকট, নদীদূষণ, যানজট ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
সভায় আবুল কালাম বলেন, বন্দরে বর্তমানে ঘণ্টায় তিন থেকে চারবার পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে লোডশেডিং করতেই হলে তা পরিকল্পিতভাবে করার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘লোডশেডিং দিতে হয়, বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু সেটা সমন্বয় করে দেন। একবারে এক ঘণ্টা দেন। কিন্তু ঘণ্টায় তিনবার দিলে এটা অসহনীয় হয়ে যায়।’
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কার্যক্রম নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, রাস্তাঘাটের বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের অসন্তুষ্টি রয়েছে। তবে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে না দেখে সমস্যাগুলো নিয়ে তাদের প্রকাশ্যে কথা বলার আহ্বান জানান তিনি।
আবুল কালাম বলেন, ‘রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে নিয়ে আমরা অসন্তুষ্ট। কিন্তু আমরা তো আপনাদের প্রতিপক্ষ না। আপনারা মুখ খুলুন।’
জেলার সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো উচিত। তাদের আত্মত্যাগের কারণেই বর্তমানের মুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিভিন্ন জায়গায় ঘাটতি থাকতে পারে। সেগুলো নিয়ে জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাকে বিতর্কের জায়গা না বানিয়ে সমস্যার সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জনগণের মৌলিক চাহিদার প্রসঙ্গ তুলে ধরে আবুল কালাম বলেন, মানুষের প্রথম সমস্যা যাতায়াত। এরপর বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস। এসব সেবার দায়িত্ব বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ভাগ হয়ে থাকায় অনেক সময় সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা দেয়।
তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের একটি অংশ সিটি করপোরেশনের মধ্যে এবং অন্য অংশ উপজেলা এলাকায়। ফলে একই সংসদীয় এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হয়।
যানজট প্রসঙ্গে তিনি চাষাঢ়া মোড় ও অটোরিকশার বিষয়টি তুলে ধরে কালাম বলেন, গত পাঁচ মাসে যানজট নিরসনে কার্যকর কোনো সুফল তৈরি হয়েছে কি না, সেটিই এখন প্রশ্ন। সমস্যার সমাধান এখনও অনেক দূরে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শীতলক্ষ্যা নদীর পানি দূষণের বিষয়টি তুলে ধরে আবুল কালাম বলেন, একসময় এই নদীর সুপেয় পানির সুনাম ছিল। কিন্তু বর্তমানে নদীর পানি বিষাক্ত হয়ে পড়েছে। নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে যৌথভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বন্দরের ওয়াকওয়ে নির্মাণ নিয়ে তিনি বলেন, ওয়াকওয়ের পরিকল্পনায় সামঞ্জস্যের অভাব রয়েছে। কোথাও প্রায় ২০০ ফুট প্রশস্ত, আবার কোথাও মাত্র ৫০ ফুট জায়গা রাখা হয়েছে। এতে প্রত্যাশিত সুফলের বদলে স্থানীয়দের জন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, বন্দরের ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা পানির দাবিতে মানববন্ধন করছেন। বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, এসব সমস্যা কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে একা সমাধান করা সম্ভব নয়। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।