হুথিদের হামলায় সৌদির গ্যাস খাতে ধস, ৯০% কমার দাবি

ইয়েমেনের হুথি-নিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র বাহিনীর হামলার পর সৌদি আরবের গ্যাস উৎপাদন ও রপ্তানি প্রায় ৯০ শতাংশ কমে গেছে বলে দাবি করেছে কয়েকটি সূত্র। তবে এই দাবির স্বাধীন কোনো নিশ্চিতকরণ এখনো পাওয়া যায়নি। সৌদি কর্তৃপক্ষ বা রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর পক্ষ থেকেও উৎপাদন ও রপ্তানিতে ৯০ শতাংশ পতনের কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

রোববার ইয়েমেনের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি জানান, সৌদি আরবের জিজান অঞ্চলে আরামকোর একটি স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ইয়েমেনের সাদা ও হাজ্জাহ প্রদেশের আকাশসীমা সৌদি ড্রোন লঙ্ঘনের জবাবে এই হামলা চালানো হয়।

হামলার পর সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জিজানে আরামকোর একটি স্থাপনার অংশে আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।

জিজানে অবস্থিত আরামকোর শোধনাগারটির দৈনিক প্রায় চার লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাতের সক্ষমতা রয়েছে। তবে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ের শেষদিকে হুথিদের একটি হামলার পর থেকেই শোধনাগারটি বন্ধ ছিল। ফলে সর্বশেষ হামলার কারণে সৌদি তেল উৎপাদনে তাৎক্ষণিক প্রভাব কতটা পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এদিকে পার্সটুডে ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সূত্রের বরাতে সৌদির গ্যাস উৎপাদন ও রপ্তানি প্রায় ৯০ শতাংশ কমে যাওয়ার দাবি সামনে এসেছে। তবে সৌদি সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান না থাকায় এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইয়েমেনের হুথি বাহিনী একই সময়ে ইয়েমেনের মোচা বন্দর এলাকাতেও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার লক্ষ্য ছিল সৌদি-সমর্থিত বাহিনী ও অস্ত্রভাণ্ডার।

সাম্প্রতিক সময়ে ইয়েমেন-সৌদি সীমান্তে উত্তেজনাও বেড়েছে। ৬ আগস্ট সৌদি সামরিক বাহিনী জানায়, ইয়েমেন থেকে চালানো হামলায় দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় নাজরানে ১১ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল বলে জানানো হয়।

এর আগে ইয়েমেনের মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে হুথিদের হামলায় সরকারি বাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্য নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এসব ঘটনার পর ২০২২ সালের পর তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকা ইয়েমেন সংঘাত আবারও বড় আকারে উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা তৎপরতাও গুরুত্ব পাচ্ছে। রিয়াদ তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করেছে। ফলে জিজানে আরামকোর স্থাপনায় হামলা এবং সৌদির জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য প্রভাব শুধু ইয়েমেন-সৌদি সংঘাতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বৃহত্তর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করবে—সেদিকেই নজর রয়েছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *