সোনারগাঁওয়ে কিশোরীসহ ৩ নারীকে কুপিয়ে জখম, থানায় অভিযোগ

সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বাড়িতে ঢুকে এক কিশোরীসহ তিন নারীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে মারাত্মক ভাবে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। পূর্বশত্রুুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের লোকজন এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। সোমবার (১০ আগষ্ট) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের মহজমপুর বশিরগাঁও এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন কিশোরী শামীমা (১৭), কিশোরীর খালা জরিনা (৪৫), মামী মানসুরা (৪০)।
এ ঘটনায় আহত কিশোরীর মা সামিরুন বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ বিরুদ্ধে সোমবার বিকেলে সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগকারী সামিরুন জানান, তাঁর মেয়ে শামিমা (১৭) ও অভিযুক্ত কেয়া মনি একই স্কুলে পড়াশোনা করে। কেয়া মনির সঙ্গে অভিযুক্ত হৃদয়ের চলাফেরা নিয়ে এলাকায় বিভিন্ন ধরনের আলোচনা হয়। তাঁর মেয়ে এসব বিষয় এলাকায় প্রচার করেছে। এমন ধারণা থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁকে ও তাঁর মেয়েকে গালিগালাজ এবং হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
সামিরুনের অভিযোগ, সোমবার সকালে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁর মেয়ে শামিমাকে মারধর শুরু করেন। এ সময় দিপু নামের একজন ধারালো দা দিয়ে শামিমার মাথায় কোপ দেন। এতে সে গুরুতর আহত হয়। মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে সামিরুনের বোন জরিনা ও ভাইয়ের স্ত্রী মানসুরাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে জরিনার মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। এ ছাড়া লোহার রড দিয়ে তাঁর বাম হাতে আঘাত করা হলে হাড় ভেঙে যায় এবং মানসুরার মাথায় চাপাতি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সামিরুন আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় শিউলী নামের এক নারী তার মেয়েকে চুলের মুঠি ধরে টানাহেঁচড়া করেন। এ সময় কেয়া মনি তাঁর ডান কানের একটি স্বর্ণের দুল নিয়ে যান। পরে তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হুমকি দিয়ে চলে যান।
পরে এলাকার লোকজন আহত ব্যক্তিদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় গতকাল সোমবার সোনারগাঁও থানায় লিখিত অভিযোগ করেন সামিরুন।
অভিযুক্ত দিপুকে একাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তা দিও সাড়া পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *