সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিদিন নানা ধরনের মতামত প্রকাশ করেন ব্যবহারকারীরা। তবে কোনো পোস্ট বা মন্তব্য মেটার কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড লঙ্ঘন করলে সেটি সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে অ্যাকাউন্টও পড়তে পারে ঝুঁকিতে।
ফেসবুকের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা নিয়ে বিভিন্ন সময় প্রকাশিত প্রতিবেদনে সহিংসতা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, যৌনতা ও নিষিদ্ধ সংগঠন-সম্পর্কিত কনটেন্টের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনার কথা উঠে এসেছে।
সহিংসতার হুমকি বা উস্কানি:
কাউকে শারীরিকভাবে আঘাত বা হত্যার সরাসরি হুমকি দেওয়া ফেসবুকে নিষিদ্ধ। নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া পোস্টও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। তবে সব ধরনের গালিগালাজ একইভাবে বিবেচিত হয় না; বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও হুমকির মাত্রা গুরুত্বপূর্ণ।
ঘৃণাত্মক বক্তব্য:
জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা অন্য কোনো সুরক্ষিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অপমান, হেয় বা অমানবিকভাবে উপস্থাপন করলে সেটি হেইট স্পিচ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। প্রাণীর সঙ্গে তুলনা করেও কাউকে অপমান করা হলে তা নীতিমালা লঙ্ঘন করতে পারে।
নিষিদ্ধ ব্যক্তি বা সংগঠনের প্রশংসা:
সন্ত্রাসী বা বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রশংসা, সমর্থন বা প্রচারণামূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে মেটার কঠোর নীতি রয়েছে। এ ধরনের কনটেন্ট সরিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজনে অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
যৌনতা ও নগ্নতাসংক্রান্ত কনটেন্ট:
যৌনভাবে স্পষ্ট ভাষা, নগ্নতা বা যৌন আবেদনময় কনটেন্টের ক্ষেত্রেও ফেসবুকের নীতিমালা কঠোর। কনটেন্টের ধরন ও প্রেক্ষাপট অনুযায়ী পোস্ট সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
অনুবাদ ও এআইয়ের ভুল:
মেটার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা সব সময় ভাষা ও প্রসঙ্গ সঠিকভাবে বুঝতে পারে না। বিশেষ করে বিভিন্ন ভাষার অনুবাদে ভুলের কারণে কোনো নিরীহ বক্তব্যও ভুলভাবে ফ্ল্যাগ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ব্যঙ্গ, রূপক বা স্থানীয় সাংস্কৃতিক শব্দের ক্ষেত্রেও এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই ফেসবুকে পোস্ট করার সময় শুধু নির্দিষ্ট কোনো ‘নিষিদ্ধ শব্দের তালিকা’ নয়, বরং বক্তব্যের উদ্দেশ্য, প্রসঙ্গ ও উপস্থাপনের ধরন বিবেচনায় রাখা জরুরি। কারণ একই শব্দ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ভিন্নভাবে মূল্যায়িত হতে পারে।