সালমান শাহর মৃত্যু ঘিরে রহস্য: ২৯ বছর পরও প্রশ্ন, নোটে কী লিখেছিলেন তিনি?

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য তিন দশক পরও পুরোপুরি কাটেনি। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর পর থেকেই এটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। পরিবারের সদস্য ও ভক্তদের একাংশ শুরু থেকেই দাবি করে আসছেন, সালমান শাহকে হত্যা করা হয়েছিল। অন্যদিকে বিভিন্ন তদন্তে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সালমান শাহর মৃত্যুর সময় তার বাসা থেকে একটি কথিত সুইসাইড নোট উদ্ধার করেছিল পুলিশ। সেই নোটে নিজের পরিচয় উল্লেখ করে তিনি লিখেছিলেন, তার মৃত্যু হলে এর জন্য কেউ দায়ী থাকবে না এবং তিনি স্বেচ্ছায় ও সুস্থ মস্তিষ্কে আত্মহত্যা করছেন—এমন বক্তব্যই তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্তেও সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন বলে মত দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা তার মৃত্যুর পেছনে কয়েকটি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণের কথা উল্লেখ করেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ, তার আবেগপ্রবণ স্বভাব এবং অতীতে আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের সঙ্গে গভীর আবেগঘন সম্পর্ক থেকে তৈরি মানসিক জটিলতা এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়।

তবে তদন্ত সংস্থার এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি সালমান শাহর পরিবার। তার মা ও পরিবারের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করা হয়েছে, নায়ককে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এ কারণে তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালতের কার্যক্রম নিয়েও তাদের আপত্তি রয়েছে।

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন সময়ে একাধিক তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদন দিয়েছে। সর্বশেষ পিবিআইয়ের প্রতিবেদনও আত্মহত্যার সিদ্ধান্তের দিকেই ইঙ্গিত করে। কিন্তু পরিবার সেই প্রতিবেদনে সন্তুষ্ট না হওয়ায় আদালতে নারাজি আবেদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

মামলার সর্বশেষ কার্যক্রম অনুযায়ী, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিবিআইয়ের চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়টি নিয়ে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। সালমান শাহর মা দেশের বাইরে থাকায় তার আইনজীবী নারাজি দাখিলের জন্য সময় আবেদন করেন এবং আদালত তা মঞ্জুর করেন।

ফলে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। একদিকে তদন্ত প্রতিবেদন ও কথিত সুইসাইড নোট আত্মহত্যার বক্তব্যকে সামনে আনছে, অন্যদিকে পরিবার ও ভক্তদের দীর্ঘদিনের হত্যার অভিযোগ বিষয়টিকে এখনো আলোচনায় রেখেছে।

তথ্যসূত্র: প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদন ও আদালত-সংক্রান্ত তথ্য

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *