এ বছর দাখিল পরীক্ষায় গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর জামালপুর বালিকা দাখিল মাদরাসার কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটি থেকে মাত্র পাঁচজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও ফলাফলে তাদের প্রত্যেকের নামের পাশে রয়েছে অকৃতকার্যের তালিকা।
তবে ফলাফল শূন্য হলেও প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক সংকট নেই। বরং মাত্র পাঁচজন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে মাদরাসাটিতে কর্মরত রয়েছেন ১৪ জন শিক্ষক। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় শিক্ষক রয়েছেন প্রায় তিন গুণ।
এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী সংখ্যা কম থাকা এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকার পরও কেন সবাই অকৃতকার্য হলো—তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় উত্তর জামালপুর বালিকা দাখিল মাদরাসা থেকে পাঁচজন ছাত্রী অংশ নেয়। কিন্তু তাদের কেউই পাস করতে পারেনি।
মাদরাসাটির অধ্যক্ষ কাজী মোহাম্মদ আবু হানিফ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ বছর পাঁচজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল এবং কেউ উত্তীর্ণ হতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
তবে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাইলে অধ্যক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যা নিয়েই তৈরি হয়েছে সবচেয়ে বেশি আলোচনা।
তিনি বলেন, ‘আসলে ভালো ছাত্রীদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এমন ফল হয়েছে।’
অধ্যক্ষের এমন বক্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে, ভালো ফল করার সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীরা বিয়ের কারণে প্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়লে তাদের বিকল্প শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করা এবং অবশিষ্ট শিক্ষার্থীদের ভালো ফল করানোর দায়িত্ব কার?
এদিকে মাদরাসাটির এমন ফলাফলকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে শিক্ষা প্রশাসন।
কালীগঞ্জ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আতিকুর রহমান জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিষ্ঠান প্রধানকে তলব করা হয়েছে। কেন এমন ফলাফল হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন তালুকদার বলেন, মাদরাসাটিতে চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত শিক্ষক রয়েছেন। এরপরও এমন ফলাফল কেন হলো, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শিক্ষার্থী অনুপাতে পর্যাপ্ত শিক্ষক থাকার পরও পাঁচজন পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো প্রতিষ্ঠানের ফলাফল খারাপ হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে ভালো শিক্ষার্থীরা বিয়ে হয়ে যাওয়াকে একমাত্র কারণ হিসেবে দেখার আগে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ও পরীক্ষার প্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়াটি পর্যালোচনা করা জরুরি।

Leave a Reply