অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের এমন দাপট যেন অনেকটাই অবিশ্বাস্য। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশি পেসারদের দুর্দান্ত বোলিংয়ের সামনে মাত্র ১৯৮ রানে অলআউট হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে এটিই অস্ট্রেলিয়ার সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ।
এই ইনিংসের মূল নায়ক হাসান মাহমুদ। দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তিনি মাত্র ৫৫ রান খরচ করে শিকার করেছেন ৬টি উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি হাসানের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং এবং টেস্ট ক্যারিয়ারে তৃতীয়বারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি।
হাসানের সঙ্গে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন। দুজনই নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। ফলে অস্ট্রেলিয়ার ১০টি উইকেটই শিকার করেছেন বাংলাদেশের পেসাররা।
প্রথম সেশনেই অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলে বাংলাদেশ। ৪৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙার পর দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে স্বাগতিকরা। হাসান মাহমুদের বলে জ্যাক ওয়েদারাল্ড ফেরার পর ট্রাভিস হেডকেও বোল্ড করেন তিনি।
এরপর ইবাদত হোসেনের বলে মার্নাস লাবুশেন মাত্র ১ রানে সাজঘরে ফেরেন। লাঞ্চের আগে ক্যামেরন গ্রিনকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৭৪ রানে চার উইকেটের চাপে ফেলে বাংলাদেশ।
একপ্রান্তে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন স্টিভেন স্মিথ। ৩৮তম টেস্ট ফিফটির পথে থাকা এই অভিজ্ঞ ব্যাটারকে শেষ পর্যন্ত ফিরিয়ে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন হাসান মাহমুদ।
স্মিথের উইকেট পাওয়ার পর অস্ট্রেলিয়াকে দ্রুত অলআউট করার পথ আরও সহজ হয়ে যায় বাংলাদেশের।
এর আগে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সসহ অস্ট্রেলিয়ার নিচের সারির ব্যাটারদেরও একে একে সাজঘরে ফেরান বাংলাদেশের পেসাররা।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই পারফরম্যান্স বাংলাদেশের পেস বোলিং ইউনিটের জন্য বিশেষ কৃতিত্বের। টেস্ট ক্রিকেটে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশের পেসাররা প্রতিপক্ষের সবকটি উইকেট শিকার করলেন।
এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে বাংলাদেশের পেসাররা প্রতিপক্ষের ১০টি উইকেটই নিয়েছিলেন।
ডারউইনে হাসান মাহমুদের ৬ উইকেটের সঙ্গে তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের দুটি করে উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ১৯৮ রানে।
বাংলাদেশের জন্য এটি শুধু একটি ভালো বোলিং পারফরম্যান্স নয়; অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের পেস আক্রমণের সামর্থ্যের বড় একটি ঘোষণা।












