হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির (এডিএনওসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুটি সরকারি ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইরানের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সরকারি মালিকানাধীন জাহাজে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
আমিরাতের সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় এডিএনওসির দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
শুক্রবার ভোরে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় এডিএনওসি-সংশ্লিষ্ট দুটি জাহাজকে লক্ষ্য করে চালানো ‘বৈরী হামলার’ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় কোনো হতাহত হয়নি। তবে আমিরাতের এই অভিযোগের বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত শনিবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মালিকানাধীন একটি ট্যাংকারে একই ধরনের হামলার অভিযোগ উঠেছিল। ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে আবারও হামলার ঘটনা ঘটল।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের অভিযোগ, ইরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যকর অবরোধ বজায় রেখেছে এবং এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য অর্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করছে এবং ইরানি জাহাজ চলাচলের ওপর নিজেদের অবরোধ আরোপ করেছে।
এদিকে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান বর্তমানে ওমানের সঙ্গে আলোচনা করছে বলে জানিয়েছে আল জাজিরা।
এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছিল, তেহরানের শত্রুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিংবা ইরানের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো জাহাজ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালিকে ব্যবহার করার ইরানের প্রচেষ্টা ‘জলদস্যুতার শামিল’। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, জনগণের নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য সরাসরি হুমকি তৈরি করছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত শনিবারের জাহাজ হামলার পরও সংযুক্ত আরব আমিরাত এ ঘটনার জন্য আইআরজিসিকে দায়ী করেছিল।
এডিএনওসি জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের সময় তাদের মোট ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় সেখানে একের পর এক জাহাজে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Leave a Reply