সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে বৈদ্যেরবাজারে ‘আল-মানার ঈদগাহ’-এর ৩৬ শতাংশ জমি দফায় দফায় অবৈধ দখল, লিজ ও নানামুখী চক্রান্তের প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। ভূমিদস্যু, দালাল ও প্রভাবশালী মহলের আগ্রাসন থেকে ঈদগাহের জমি রক্ষা এবং সরকারিভাবে স্থায়ী বন্দোবস্তের দাবিতে ১২টি গ্রামের মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার ( ১৪ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের মামরকপুর এলাকায় মামরকপুর, আনন্দবাজার, মোবারকপুর, দক্ষিণ খংসারদী, টেঙ্গারচর, উত্তর খংসারদী, বসনদরদী, মোল্লাবাড়ী, নগরপুর ও খংসারণীসহ আশপাশের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, যুগের পর যুগ ধরে এই স্থানটিতে এলাকার মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করে আসছেন। কিন্তু একটি প্রভাবশালী চক্র এই পবিত্র জায়গাটি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছে।
ঈদগাহ কমিটির সহ-সভাপতি মোতালেব প্রধান বলেন, অতীতে জায়গাটি সাত্তার সাহেব ভোগ করতেন। তাকে বলায় তিনি আর লিজ নেননি। জায়গাটি নিচু ও গর্ত থাকায় আমরা সকলে মিলে প্রায় ১২ লাখ টাকা খরচ করে বালু ভরাট করি। কিছু খালি জায়গা দেখে বাইরের একটি চক্র তা লিজ নেওয়ার জন্য দরখাস্ত করে। এখানে ইতোমধ্যে ১২টি গ্রামের মানুষ দুই ঈদের নামাজ আদায় করেছি। আমরা বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মহোদয়কে জানালে তিনি আমাদের ঈদগাহ করার অনুমতি দেন এবং সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করতে বলেন। এর প্রেক্ষিতে ভূমি অফিসের কানুনগো ও নায়েব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঈদগাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। জনগণের স্বার্থে আমরা সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।
৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থে নয়, দশের স্বার্থে আমরা এই জমিটি চাচ্ছি। ১২টি গ্রামের সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি রক্ষায় সোনারগাঁও উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
আওলাদ মিয়া সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন, ১০-১২টি সমাজের মানুষ যেন নির্বিঘ্নে এই জায়গাটিতে ঈদের নামাজ আদায় করতে পারে, তার স্থায়ী সমাধান চাই।”
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ সর্বস্তরের মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঈদগার সভাপতি হাজী আফতাব উদ্দিন মোল্লা, সহ-সভাপতি মোতালেব প্রধান, ক্যাশিয়ার গাজী মোস্তফা, যুগ্ম সম্পাদক গাজী আনিসুল, সহ-সভাপতি গাজী শামসু, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার আবুল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম, নূরে ইয়াসিন নোবেল, আওলাদ হোসেন, আক্তার মোল্লা, মালেক, গাজী, খাইরুল, কাশেম আলী, লেয়াকত আলী, মাওলানা হাফেজ উসমানসহ ১২টি গ্রামের শত শত সাধারণ মানুষ ও তরুণ সমাজ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী অবিলম্বে ঈদগাহের ৩৬ শতাংশ জমি অন্য কারও নামে লিজ বা বরাদ্দ দেওয়ার সকল চক্রান্ত বন্ধ করে, তা আল-মানার ঈদগাহের নামে স্থায়ীভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ার জোর দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।












