বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) দেশজুড়ে দোয়া, মিলাদ মাহফিল ও দরিদ্র-অসহায় মানুষের মধ্যে সহায়তা বিতরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।
১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন খালেদা জিয়া। মৃত্যুর আগে তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
প্রয়াত নেত্রীর আত্মার মাগফিরাত কামনা ও তার রাজনৈতিক অবদান স্মরণে বিএনপি কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই ধরনের কর্মসূচি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে পালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া বিকেল ৩টায় রাজধানীর মহাখালী কড়াইল এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের শুরু অনেকটা আকস্মিকভাবে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তার স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য হন তিনি।
পরবর্তীতে দলের নেতৃত্বে উঠে এসে এরশাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্ব ছিল উল্লেখযোগ্য।
১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হওয়ার পর ২০ মার্চ দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন খালেদা জিয়া। তার নেতৃত্বে একই বছর সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ তৈরি হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে স্বল্প সময়ের জন্য এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের বিজয়ের পর তৃতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন তিনি।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে রয়েছে আন্দোলন, কারাবরণ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হওয়ার পর ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি কারাগারে ছিলেন।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় সাজা হলে আবারও কারাবন্দি হন বিএনপি চেয়ারপারসন। পরে করোনাভাইরাস মহামারির সময় ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় গুলশানের বাসভবন ‘ফিরোজা’য় অবস্থান করেন।
অসুস্থতার কারণে বিভিন্ন সময়ে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তার দীর্ঘ বন্দিদশার অবসান ঘটে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরেন।
২০২৫ সালের শেষ দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২৩ নভেম্বর খালেদা জিয়াকে আবার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রায় ৪০ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ৩০ ডিসেম্বর ভোরে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে।
তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির দীর্ঘদিনের চেয়ারপারসন হিসেবে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তার মৃত্যুর পরও বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকা ও অবদান স্মরণ করা হচ্ছে।
এবার তার জন্মদিনে আয়োজিত কর্মসূচিগুলোতেও দলীয় নেতাকর্মীরা প্রয়াত নেত্রীর রাজনৈতিক জীবন, আন্দোলন-সংগ্রাম ও দেশের রাজনীতিতে তার অবদানের কথা স্মরণ করছেন।

Leave a Reply