চ্যাটে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে অনেকেই থাম্বস-আপ ইমোজি ব্যবহার করেন। কারও কাছে এর অর্থ ‘ঠিক আছে’ বা ‘বুঝেছি’। আবার কারও কাছে শুধু থাম্বস-আপ পাঠানো মনে হতে পারে রূঢ়, অনাগ্রহী বা প্যাসিভ-অ্যাগ্রেসিভ আচরণ। ফলে ছোট্ট এই ইমোজি নিয়েই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে থাম্বস-আপ ইমোজির ব্যবহার নিয়ে এমন আলোচনা উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, থাম্বস-আপ ইমোজি নিজে থেকে অভদ্র নয়। এটি কে পাঠাচ্ছেন, কাকে পাঠাচ্ছেন এবং কোন পরিস্থিতিতে পাঠানো হচ্ছে—তার ওপর এর অর্থ অনেকটাই নির্ভর করে।
বন্ধুর সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথনের পর শুধু থাম্বস-আপ পাঠালে সেটিকে কেউ কেউ কথা শেষ করার ইঙ্গিত হিসেবে নিতে পারেন। আবার কর্মক্ষেত্রে কোনো সহকর্মীর বার্তার জবাবে এটি ‘বুঝেছি’ বা ‘ঠিক আছে’ বোঝাতে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবহার করা যায়।
প্রজন্মভেদেও ইমোজিটির অর্থ বদলে গেছে। বয়স্কদের কাছে থাম্বস-আপ এখনো সাধারণত সম্মতি বা স্বীকৃতির প্রতীক। তবে তরুণদের একটি অংশ এটিকে অনাগ্রহ, বিরক্তি কিংবা কথোপকথন এড়িয়ে যাওয়ার সংকেত হিসেবে দেখেন।
আচরণবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পেশাগত যোগাযোগে থাম্বস-আপ ব্যবহারে কিছুটা সতর্ক থাকা ভালো। কারণ খুব সংক্ষিপ্ত এই প্রতিক্রিয়াকে কখনো কখনো হঠাৎ কথোপকথন শেষ করে দেওয়ার মতো মনে হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, ইমোজিটির কোনো নির্দিষ্ট রূঢ় অর্থ নেই। অনলাইনে মুখের অভিব্যক্তি, কণ্ঠস্বর বা শরীরের ভাষা বোঝার সুযোগ না থাকায় ছোট একটি ইমোজিও ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে। বিশেষ করে কেউ আগে থেকেই উদ্বিগ্ন বা বিরক্ত থাকলে নিরপেক্ষ প্রতিক্রিয়াকেও নেতিবাচকভাবে নেওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
তাই চ্যাটে থাম্বস-আপ পাঠানোকে সরাসরি অভদ্র বলা যায় না। তবে সংবেদনশীল আলোচনা, তর্ক বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে শুধু ইমোজির বদলে ‘বুঝেছি’, ‘ঠিক আছে’ বা ছোট একটি বাক্যে উত্তর দেওয়া বেশি নিরাপদ।

Leave a Reply