তরুণ ব্যবহারকারীদের ক্ষতি করার অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ৩০টি অঙ্গরাজ্যের করা মামলার নতুন জুরি ট্রায়াল মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে। মামলায় মেটা হেরে গেলে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।
২০২৩ সালে করা এ মামলায় শিশুদের গোপনীয়তা রক্ষায় ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্যের আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়। অঙ্গরাজ্যগুলো মেটার কাছে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। পাশাপাশি তরুণদের জন্য ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন ফিচার পরিবর্তনেরও দাবি জানানো হয়েছে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য অভিভাবকের যাচাইকরণ, ‘লাইক’ সংখ্যা দেখানো বন্ধ করা, ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে রাখে এমন সুপারিশ অ্যালগরিদম পরিবর্তন, কিছু ইমেজ ফিল্টার সরিয়ে ফেলা এবং ভিডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু বন্ধ করা।
এ ছাড়া একজন ব্যবহারকারীর একাধিক অ্যাকাউন্ট খোলার সুযোগ সীমিত করা এবং নির্দিষ্ট সময় পর অদৃশ্য হয়ে যায় এমন পোস্ট বন্ধ করার দাবিও রয়েছে।
অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, তরুণদের দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে মেটা এসব ফিচার ও অ্যালগরিদম তৈরি করেছে। ঘন ঘন নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের বারবার অ্যাপে ফিরিয়ে আনারও অভিযোগ রয়েছে। তবে মেটা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
এর আগে নিউ মেক্সিকোর একটি মামলায় মেটাকে ৯৪ কোটি ২০ লাখ ডলার জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে কিশোরদের জন্য ‘লাইক’ সংখ্যা সীমিত করা এবং পুশ নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়।
৩০টি অঙ্গরাজ্যের মামলায় মেটা হেরে গেলে একই ধরনের পরিবর্তন পুরো যুক্তরাষ্ট্রে কার্যকর হতে পারে। এতে দেশজুড়ে ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের বর্তমান ধরন উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মামলায় অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবীরা মেটার নিজস্ব গবেষণার নথিও উপস্থাপন করেছেন। তাদের দাবি, ‘লাইক’ সংখ্যা তরুণদের মধ্যে সামাজিক তুলনা, একাকিত্ব, শরীর নিয়ে নেতিবাচক ধারণা ও খারাপ মেজাজ বাড়াতে পারে। মেটা অবশ্য বলছে, তরুণদের সহায়তায় তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে এবং মামলার অভিযোগের সঙ্গে তারা একমত নয়।












