দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের গতি বাড়াতে বিদ্যমান অর্থবছরের সময়সীমায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন মেয়াদের পরিবর্তে নতুন অর্থবছর ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বর্তমান অর্থবছরের শুরু জুলাই মাসে হওয়ায় বর্ষাকালের সঙ্গে উন্নয়ন কার্যক্রমের একটি বড় অংশের সময় মিলে যায়। জুলাই-আগস্টে ভারী বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার কারণে রাস্তা, সড়কসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি তৈরি হয়। এতে প্রকল্পের কাজের মান ও সময়সূচি উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও বাড়ে।
নতুন এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালু হলে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই বছরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগত কাজ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করছে সরকার। এর ফলে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়বে এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের কার্যকারিতাও বাড়তে পারে।
হঠাৎ অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের ফলে বাজেট ও আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যাতে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি না হয়, সে জন্য একটি অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে রূপান্তরকালীন অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ অর্থবছরটি ১২ মাসের পরিবর্তে ৯ মাস, অর্থাৎ জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত চলবে। এরপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চের নতুন অর্থবছর পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে।
নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, বাংলাদেশ ব্যাংক ও লেজিসলেটিভ বিভাগের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হবে
অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন আইন ও বিধিবিধানেও পরিবর্তন আনতে হবে। এজন্য সংবিধান এবং ‘জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭’-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে সরকারের ডিজিটাল আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বাজেট প্রণয়ন, হিসাব সংরক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার ব্যবস্থাতেও প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিবর্তন আনা হবে।
সরকারের প্রত্যাশা, নতুন অর্থবছর চালু হলে বাজেট পরিকল্পনা ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের সময়সূচির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় তৈরি হবে। তবে এত বড় পরিবর্তন বাস্তবায়নে প্রশাসনিক প্রস্তুতি, বাজেট ব্যবস্থাপনা ও আইনগত সংশোধন যথাযথভাবে সম্পন্ন করাই হবে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।












