নারায়ণগঞ্জে বুলবুল হত্যার ঘটনায় আদালতে জনরোষেরল সিফাত বাহিনী

 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় আসামিদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রধান আসামি শেখ সিফাতসহ অন্য আসামিদের ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও স্লোগান দেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে দুপুরে বুলবুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নূরুল হুদা চৌধুরীর আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্তের স্বার্থে তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত সাত পুরুষ আসামির ১০ দিন এবং চার নারী আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—শেখ সিফাত (৩২), মাহাবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ (৩২), জুম্মান ওরফে হোয়াইট জুম্মান (২৯), রিয়াদ (৩৩), সিয়াম (২৫), ইরফান (২৯), মিনারা (৩৫), নাসিমা বেগম (৩৬), রুমা বেগম (৩৬), ইয়াসমিন (৩০) ও সিজান ওরফে জিসান (২৪)।

রিমান্ড শুনানি শেষে আসামিদের আদালত থেকে বের করে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন আসামিদের উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে প্রধান আসামি সিফাতসহ কয়েকজনকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। এসময় আসামিদের ওপর হামলা চালিয়ে তাদের মারধর করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে পুলিশ দ্রুত তাদের প্রিজন ভ্যানে তুলে কারাগারের উদ্দেশে পাঠিয়ে দেয়।

নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বলেন, আসামিদের আদালত থেকে বের করে হাজতে নেওয়ার সময় উত্তেজিত জনতা স্লোগান দিয়েছে। তবে এ সময় হামলা বা হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।

এর আগে গত ২০ আগস্ট রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মামলা প্রত্যাহার না করায় ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুলকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। পরে নিহতের বড় ভাই জুবায়ের আল আমিন বাদী হয়ে বন্দর থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলায় ‘সিফাত বাহিনী’র প্রধান শেখ সিফাতকে প্রধান আসামি করে মোট ৪০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলার তদন্তে গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করে আদালতে পাঠানো হয়।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *