নারায়ণগঞ্জে ইসলামি যুব আন্দোলন নেতা বুলবুল হত্যায় মামলা

 

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:
নারায়ণগঞ্জের বন্দরে মামলা তুলে না নেওয়ায় ইসলামি যুব আন্দোলনের নেতা জাহিদ হাসান বুলবুলকে (৩৮) কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। নিহত বুলবুলের বড় ভাই জুবায়ের আল আমিন বাদী হয়ে ‘সিফাত বাহিনী’র প্রধান শেখ সিফাতকে প্রধান আসামি করে ৪০ জনের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় এ হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বন্দর থানার ২১ নং ওয়ার্ডের সালেহনগর এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে ।

নিহত জাহিদ হাসান বুলবুল বন্দর থানার ২২ নং ওয়ার্ড বন্দরের শাহী মসজিদ ঠাকুরবাড়ী এলাকার মৃত রাজা মাস্টারের ছেলে। তিনি ইসলামি যুব আন্দোলন বাংলাদেশ বন্দর থানা শাখার যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। হত্যকান্ডের ঘটনার ৬ ঘন্টা ব্যবধানে বন্দর থানা পুলিশসহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শুক্রবার (২১ আগস্ট) দিবাগত রাত ৪টায় বন্দর থানার ২৩ নং ওয়ার্ডের কদমরসুল মাঠপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, শেখ সিফাত (৩২) মাহাবুব হোসেন ওরফে মাহফুজ(৩২) জুম্মান ওরফে হোয়াইট জুম্মান(২৯), রিয়াদ(৩৩), সিয়াম(২৫), ইরফান(২৯), মিনারা(৩৫), নাসিমা বেগম(৩৬) রুমা বেগম(৩৬), ইয়াসমিন(৩০) ও সিজান ওরফে জিসান(২৪)। গ্রেপ্তারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ ।

মামলার বাদী জুবায়ের আল আমিন জানান, ২০২৪ সালের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেয় বুলবুল। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় তাঁর মালিকানাধীন রিকশার গ্যারেজে হামলা ও ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়। এই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২০ আগস্ট বুলবুল বাদী হয়ে শেখ সিফাতকে প্রধান আসামি করে বন্দর থানায় একটি মামলা (মামলা নং-১৪) করেন।
মামলা দায়ের করার পর থেকেই এটি তুলে নেওয়ার জন্য বুলবুলকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে সালেহনগর এলাকায় বুলবুলকে একা পেয়ে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে সিফাত বাহিনী। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে বুলবুলকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা বুলবুলকে উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী জানান, প্রধান আসামি শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে ১৪টি, জুমানের বিরুদ্ধে ৯টি এবং রিয়াদের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ও একটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্দর থানার ওসি জামালউদ্দিন জানান, বুলবুল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত প্রধান আসামি সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিদের ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *