সোনারগাঁও (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয়ের হামলা ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে। বুধবার ( ১৯ আগস্ট ) দুপুরে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬নং ওয়ার্ড কার্যালয়ে এ হামলার ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। হামলায় ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারীসহ উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছে।
আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সংঘর্ষে দু’জনের অবস্থা আশংঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় দু’পক্ষের অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সাথে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে বুধবার দুপুর ১ টায় আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খাঁন, আব্দুল লতিফ, মনির হোসেন, ডালিম মিয়া ও ইমজামানসহ ১০-১৫জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে আষাঢ়িয়ার চর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় পিরোজপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। হামলাকারীরা কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাংচুর করে। এসময় সোনারগাঁ থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ, বাবুল বেপারীসহ কয়েকজন হামলাকারীদের বাঁধা দেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে আব্দুর রউফের পক্ষের পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হয়। এছাড়াও আব্দুল জলিল পক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খাঁন, ডালিম আহত হয়। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে বাবুল বেপারী, আবু বকর সিদ্দিকের অবস্থা আশংঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ জানান, গত ঈদের দিন মাদক মুক্ত সমাজ গড়ার আহবান জানিয়ে তিনি বক্তব্য দেওয়ার পর থেকে আব্দুল জলিল তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। বিভিন্ন সময়ে তাকে হুমকি দিয়ে আসছিল। গতকাল বুধবার বিএনপির কার্যালয়ে বসে কথাবার্তা বলার এক পর্যায়ে অতর্কিতভাবে জলিলের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা করে। এসময় তার দুই ছেলেসহ ৮নেতাকর্মীকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করে। এসময় তারা বিএনপি কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার টেবিল ভাংচুর করে।
অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিল জানান, গত বছরে আব্দুর রউফ তাদের গ্রামে নিরীহ মানুষের বাড়িতে আগুন দিয়েছিল। ওই মামলায় তাকেও আসামী করা হয়েছিল। পুলিশের তদন্তে সেসহ তার অনুসারী ৫ জনকে চার্জশীট থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই মামলায় আব্দুর রউফ আদালতে হাজির দিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গ্রামে মহড়া দেয়। পরে বিষয়টি জানতে গিয়ে তারা বিএনপির কার্যালয়ে আমাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আটকে মারধর করে। পরে তার নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে দরজা ভেঙ্গে তাকে উদ্ধার করে।
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, হামলা ও সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের আহত রয়েছে। তবে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। তবে চিকিৎসা শেষে অভিযোগ দেবে বলে শুনেছি।












