কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের বিরুদ্ধে চরম গাফিলতি ও উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতের ঘটনায় শোক প্রকাশ করে শুভেন্দু বলেন, শহরের অবকাঠামোতে বছরের পর বছর কোনো ধরনের যথাযথ সরকারি তদারকি ছাড়াই হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তা ও ন্যূনতম সুরক্ষা বিধিও উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, মির্জা গালিব স্ট্রিটের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ডে তিনি ক্ষুব্ধ ও হতাশ। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান ও তদন্তের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। তবে এ ঘটনার পেছনে আগের সরকারের ভয়াবহ গাফিলতি ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তাৎক্ষণিকভাবে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে বলে জানান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাত ২টার দিকে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। এতে এখন পর্যন্ত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। আহত ছয়জন কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নিহতদের মধ্যে কুষ্টিয়ার দেবাশিস দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শিম্মিন, তাদের দুই বছরের সন্তান শর্ণশিষ দত্ত এবং দেবাশিসের শ্বশুর মো. আকরাম আলী রয়েছেন। এছাড়া ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার আহমেদ বাবু এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার ১৯ বছর বয়সী সন্দীপ পাসওয়ানের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, নিহতদের শরীরে বড় ধরনের পোড়া দাগ পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগুনের ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। নিহত আরও তিনজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।












