মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের পর দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের যৌথ সামরিক মহড়া ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’-এর পরিসর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ১১ দিনের পরিবর্তে এবার পাঁচ দিন চলবে এ মহড়া। পাশাপাশি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে মাঠপর্যায়ের কিছু প্রশিক্ষণও।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
গত ১৭ আগস্ট শুরু হওয়া মহড়া ২১ আগস্ট শেষ হবে। আগে এটি ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা ছিল। মহড়ার কিছু মাঠপর্যায়ের প্রশিক্ষণ বাতিল করে সিমুলেশনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহন গিউ-ব্যাক জানিয়েছেন, মহড়ার দ্বিতীয় ধাপও বাতিল করা হতে পারে। এ ধাপে প্রতিরক্ষামূলক প্রশিক্ষণের পর পাল্টা হামলার অনুশীলন করার কথা ছিল।
এর আগে গত রোববার ট্রাম্প মহড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ‘উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর’ নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে তার ‘খুব ভালো সম্পর্ক’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মহড়া কমানোর পেছনে ট্রাম্পের একাধিক কৌশলগত লক্ষ্য থাকতে পারে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনা শুরুর চেষ্টা অন্যতম।
মহড়া কমানো হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন ও সিউলের সামরিক হুমকি মোকাবিলায় আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে পিয়ংইয়ং।
তবে এবার ট্রাম্পের নির্দেশ বা মহড়া কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে উত্তর কোরিয়া সরাসরি কোনো মন্তব্য করেনি। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, এতে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার ইঙ্গিত থাকতে পারে।
এদিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম জং উনের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনা নিয়ে ট্রাম্প তার কর্মকর্তাদের প্রস্তুতি নিতে বলেছেন। নভেম্বরে চীনে এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সময় এমন বৈঠক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে রয়টার্স এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া তাদের যৌথ সামরিক মহড়াকে প্রতিরক্ষামূলক এবং উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে পিয়ংইয়ং দীর্ঘদিন ধরে এসব মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে হামলার প্রস্তুতি হিসেবে অভিযোগ করে আসছে।
সূত্র: রয়টার্স












